নারীর সঙ্গে কথা বলার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভোলা জেলা দক্ষিণ শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণ শাখার প্রচার সম্পাদক মাওলানা মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তিনি জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ভোলা জেলা দক্ষিণের সর্বস্তরের দায়িত্বশীল জনশক্তি শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে ভোলা জেলা দক্ষিণের সেক্রেটারি আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত চারিত্রিক স্খলন-সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা সালাউদ্দিন সাহেবকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণ শাখা সূত্রে জানা যায়, মাওলানা আব্বাস উদ্দিন রাজনীতি ছাড়াও স্থানীয় একটি কওমী মাদরাসার পরিচালক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে এক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে আপত্তিকর অবস্থায় কথা বলতে দেখা যায়। যা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরপর এ ঘটনায় গত রোববার (১১ অক্টোবর) তার পদ স্থগিত করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ইসলামী আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটিতে ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর কামাল উদ্দিনকে প্রধান করা হয়। কমিটির তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে বহিষ্কার হওয়া মাওলানা আব্বাস উদ্দিন বলেন, ভিডিও কলে থাকা ওই নারী আমার স্ত্রী এবং ভিডিওটি কয়েকমাস আগের। ভিডিওটি যে মোবাইলে ছিল, সেটি সম্প্রতি চুরি হয়ে যায়। একটি মহল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেই ভিডিওটিকে পুঁজি করে রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
মো. খাইরুল ইসলাম/এএমকে
