কালবেলা · জীবনধারা
আধুনিক জীবনযাপনে কমছে রাতের ঘুম
২১/১০/২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার ও সার্বক্ষণিক কাজের চাপে ইউরোপে মানুষের ঘুমের সমস্যা বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য, শহরের দূষণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য। এসব কারণে পর্যাপ্ত ও স্বস্তিদায়ক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।
‘জার্নাল অব স্লিপ রিসার্চ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করার জন্য নয়; শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত, মস্তিষ্কের বর্জ্য অপসারণ এবং স্মৃতি সংরক্ষণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খবর ইউরো নিউজের।
গবেষকরা বলছেন, ঘুমের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব শুধু ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। এজন্য ইউরোপের সরকারগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
গবেষণার সহপ্রধান লেখক ও নটিংহাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘুমবিষয়ক গবেষক ফ্রান পিলকিংটন-চেনি বলেন, ইউরোপে ঘুমের স্বাস্থ্যের ওপর একসঙ্গে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি ও অনিয়মিত কর্মঘণ্টা কীভাবে ঘুমের ক্ষতি করছে, তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ইউরোপ বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণায়নশীল মহাদেশ। রাতে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে শরীরের স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। শহরের যানবাহনের শব্দ, বায়ুদূষণ ও কৃত্রিম আলোও ঘুমের সমস্যা বাড়ায়।
এ সমস্যায় বেশি ভোগেন নিম্ন আয়ের মানুষ, যাদের ঘরে পর্যাপ্ত শীতল পরিবেশের ব্যবস্থা নেই। অতিরিক্ত গরম ও ভিড়ের মধ্যে বসবাসকারীরাও ঝুঁকিতে রয়েছেন।
প্রযুক্তির ব্যবহারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্মার্টওয়াচ ও ঘুম মাপার অ্যাপ উপকারী হলেও সব যন্ত্রের তথ্য রোগ নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়। বরং ঘুমের পরিমাপ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা তৈরি হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘স্লিপম্যাক্সিং’ প্রবণতাও মানুষকে ঘুম নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন করে তুলতে পারে।স্লিপম্যাক্সিং মানে ঘুমকে যতটা সম্ভব নিখুঁত ও কার্যকর করার চেষ্টা। কর্মক্ষেত্রেও বাড়ছে চাপ।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের প্রায় ২১ শতাংশ কর্মী পালাক্রমে কাজ করেন। বিশেষ করে রাতের পালায় কাজ শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটায়।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের নির্দিষ্ট কর্মসূচি, বিশ্রামের সময় নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে ক্লান্তি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।
সুত্র: ইউরো নিউজ
মূল প্রতিবেদনে যান ↗