Published on
:
2 min read
সূর্যকান্ত কুমার, কালনা
আইডিয়া মাথায় এসেছিল মিষ্টির দোকানে হটকেকের মতো তালের ফুলুরির বিক্রি দেখে। তার পরেই নাড়ু বানিয়ে তা বিক্রির পরিকল্পনা করে ফেলেছিলেন কালনার মিশনপাড়ার বাসিন্দা প্রমীলা আর অপর্ণা শিকদার। বছর পাঁচেক আগে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তই জীবন ঘুরিয়ে দিয়েছে শাশুড়ি ও বৌমার। স্থানীয় বাজারে তো বটেই, প্রমীলা ও তাঁর পুত্রবধূ অপর্ণার তৈরি নাড়ু এখন যাচ্ছে ভিন জেলাতেও। শাশুড়ি–বৌমার সৌজন্যে কর্মসংস্থান হয়েছে আরও কয়েক জন মহিলার। পুজোর মরশুমে এখন কার্যত নাওয়া–খাওয়ার সময় নেই প্রমীলা, অপর্ণাদের।
শাশুড়ি আর বৌমা দু’জনেই ভাল নাড়ু তৈরি করতে পারতেন। তাঁদের তৈরি নাড়ু খেয়ে প্রশংসা করতেন আত্মীয়–পরিজন, প্রতিবেশীরা। অপর্ণা বললেন, ‘একবার জন্মাষ্টমীর সময়ে দেখি, মিষ্টির দোকানে তালের ফুলুরি তৈরি বানাচ্ছে। তা বিক্রি হচ্ছে হটকেকের মতো। এত চাহিদার কারণ হিসাবে জানতে পারলাম, অনেকেরই এখন আর এ সব বাড়িতে বানানোর সময় নেই। তা ছাড়া এ সব বানানোর ঝক্কিও অনেক। তাই দোকান থেকে রেডিমেড কিনে নিচ্ছেন সবাই।’
অপর্ণা বলে চললেন, ‘তখনই মাথায় খেলে যায়, আমি আর শাশুড়ি দু’জনেই তো ভাল নাড়ু বানাই। নাড়ু বানিয়ে বিক্রি করলে কেমন হয়! শাশুড়িকে প্রস্তাব দিতেই তিনিও এককথায় রাজি হয়ে যান। স্থানীয় বাজারে গিয়ে দোকানদারদের বলি, নাড়ু বানিয়ে দিলে তাঁরা নেবেন কি না। তাঁরা হ্যাঁ বলতেই শুরু করে দিই নাড়ু তৈরির এই ব্যবসা। এখন তো জিরাট, শান্তিপুর–সহ ভিন জেলাতেও আমাদের নাড়ু যাচ্ছে।’
শাশুড়ি প্রমীলা বললেন, ‘নারকেল আর তিলের নাড়ুর পাশাপাশি এখন চিঁড়ে ও মুড়ির মোয়াও তৈরি করছি। সারা বছরই চাহিদা থাকে। তবে বিশ্বকর্মা পুজো থেকে একদম রাসপূর্ণিমা পর্যন্ত চাহিদা তুঙ্গে থাকে। লক্ষ্মীপুজোয় চাহিদা সবথেকে বেশি হয়। তাই এখন নাওয়া–খাওয়ার সময় নেই কারও।’
শাশুড়ি আর বৌমা মিলে তো নাড়ু–মোয়া বানিয়ে চলেছেন, দোকানে দোকানে পৌঁছে দেওয়া হয় কী ভাবে? প্রমীলা জানালেন, সে দায়িত্ব তাঁর স্বামী খোকন শিকদারের। প্রমীলার পুত্রবধূ অপর্ণা পাশ থেকে বলে উঠলেন, ‘মায়ের যেমন নাড়ু বানাতে খুব উৎসাহ, বাবার তেমন দোকানে সাপ্লাই দিতে।’ খোকন বললেন, ‘পাঁচ বছর আগেও সংসারে অভাব ছিল। স্ত্রী আর বৌমার এমন সিদ্ধান্তে এখন আমার নাওয়া–খাওয়ার সময় মেলে না।’ প্রমীলা–খোকনের ছেলে, অপর্ণার স্বামী প্রদ্যুৎ অবশ্য নাড়ুর এই ব্যবসায় নেই। না–থাকার কারণ, তিনি ভিন রাজ্যে হোটেলে কাজ করেন।
