জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌর বাজার এলাকার জবাইখানা-সংলগ্ন কিলখানা রোডে সন্ধ্যার পর অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকায় দেশীয় মদ সেবন, মাদক কেনাবেচা ও মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ার আসর বসে। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিৎকার-চেঁচামেচি ও অস্বাভাবিক আচরণে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনের বেলায় কিলখানা রোড এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ থাকলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিচিত লোকজন সেখানে জড়ো হন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দেওয়ানগঞ্জের বেলতলী সুগার মিলস এলাকার সুইপার কলোনি-সংলগ্ন হরিজনপল্লী থেকে তরলজাতীয় দেশীয় মদ এনে কিছু ব্যক্তি সেখানে বিক্রি করেন। এ কাজে এক নারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
কিলখানা রোডের এক বাসিন্দা বলেন, ‘দিনের বেলায় পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। অনেক সময় তাঁদের চিৎকার-চেঁচামেচি ও অস্বাভাবিক আচরণে ভয় লাগে। সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হতেও আতঙ্ক বোধ করি।’
এলাকার এক ভুঁড়ি ব্যবসায়ী, যিনি ছদ্মনাম ‘বাক্কা’ ব্যবহার করতে চান, জানান, ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত জবাইখানায় গরু-খাসি জবাইয়ের কাজ চলে। এরপর ভুঁড়ি ব্যবসায়ীরা বিকেল পর্যন্ত ভুঁড়ি পরিষ্কার করেন। তবে সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় ভিন্ন পরিবেশ তৈরি হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে অপরিচিত লোকজন এখানে আসে। কেউ উচ্চস্বরে গান গায়, কেউ চিৎকার করে, আবার কেউ একে অপরকে গালাগাল করে। অনেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ায় মেতে ওঠে। এতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
এলাকার এক হোটেল শ্রমিক বলেন, তাঁর দুই মেয়ে শিক্ষার্থী। পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করা এই ব্যক্তি জানান, সন্ধ্যার পর কথিত মাদকসেবীদের আনাগোনা ও অস্বাভাবিক আচরণে তাঁর মেয়েরা ভয় পায়। এতে তাদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। হোটেলে কাজ করে সংসার চালাই। সন্ধ্যার পর নেশাগ্রস্ত লোকজনের আনাগোনা ও অস্বাভাবিক আচরণে আমার মেয়েরা ভয় পায়। ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে না। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চাই।’
স্থানীয়দের দাবি, রাতের এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁরা এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার এবং মাদক কেনাবেচা ও অনলাইন জুয়ার অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকায় মাদক সেবন করেন এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে তিনি দেওয়ানগঞ্জের বেলতলী সুগার মিলসের সুইপার কলোনি এলাকার হরিজনপল্লীতে যেতেন। তবে সেখানে যাওয়ার পথে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আগে সেখানে যেতাম। পথে পুলিশ ধরলে ঝামেলায় পড়তে হয়। এখানে একজনের কাছ থেকে সহজে পাওয়া যায়। আগের দামেই পাওয়া যায়, তাই এখান থেকেই নিই।’ তবে তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে মাদক সরবরাহের উৎস বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, কিলখানা রোড এলাকার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। তবে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। মাদকসহ কাউকে পাওয়া গেলে কিংবা মাদকসেবীকে শনাক্ত করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাঁদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে কিলখানা রোড এলাকার রাতের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন। পাশাপাশি নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কিলখানা রোডে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।
The post দেওয়ানগঞ্জের কিলখানা রোডে মাদক ও অনলাইন জুয়ার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় এলাকাবাসী appeared first on ভোরের চেতনা.
