মাগুরা শহরে একটি বাস কাউন্টারে যুবদলের এক নেতার মাথায় গুলি করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পরও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সমানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বুধবার ভোর ৬টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ‘রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার’ থেকে যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন মাগুরা সদর থানা ওসি আব্দুল্লা আল মামুন।
নিহত মো. সাকের হোসেন শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার প্রয়াত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সাকেরের দুটি মেয়ে রয়েছে।
পরে রাতে সাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার রোমা অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বলে জানিয়েছেন ওসি আব্দুল্লা আল মামুন।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিন সকালে বিএনপি ও এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
মিছিলের আগে সমাবেশে বক্তারা সাকের নিহতের ঘটনাকে পূর্ব পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলেছেন। তারা বলেন, এ ঘটনা মাগুরা শহরকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে, তা নাহলে জননিরাপত্তা চরমভাবে হুমকির মুখে পড়বে।
সমাবেশে মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাছুদ হাসান খান কিজিল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান শামীম এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান হাসু বক্তব্য দেন।
স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে দিশেহারা শারমিন
দুপুরে শহরতলীর পারনান্দুয়ালী ব্যাপারী পাড়া গ্রামে সাকেরের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, গোটা পরিবার শোকে স্তব্ধ। মা রিনা বেগম ছেলে হারানোর শোকে শয্যাশায়ী।
সাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার বার-বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। তিনি শুধু বলছেন, “আমি দুটি অবুঝ শিশু নিয়ে কীভাবে বাঁচব। ওরা আমাকেও মেরে ফেলুক।”
সাকেরের বড় ভাই রাজমীর হোসেন বলেন, সাকেরের কোনো শত্রু ছিল না। সে সব-সময় সকলের সঙ্গে হাসি-খুশি মুখে ব্যবহার করত। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াত। তবে কেন তাকে হত্যা করা হল?
ঘটনার দিন বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে সাকেরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের সময় তার মাথার পেছনে একটি ছিদ্রের চিহ্ন পাওয়া গেলেও সেই গুলির কিনা তা জানাতে পারেনি পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের নিহতের মাথা থেকে একটি গুলি উদ্ধারের পর ঘটনাটিকে হত্যা বলে ধরে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, নিহতের মাথায় পাওয়া গুলিটি কোন অস্ত্রের তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গুলিটি পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। ঘটনাস্থলসহ গুলি পরীক্ষা ও অন্য আলমত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
