কেতুগ্রামের নির্জন শ্মশানঘেঁষা অট্টহাস সতীপীঠ। এখানে দেবী পূজিতা হন ভয়াল চামুণ্ডা রূপে। পুরাণ বলে, সতীর দেহত্যাগের পর এই মাটিতেই আছড়ে পড়েছিল দেবীর অধর বা ঠোঁটের নিম্নাংশ। সাড়ে তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরনো সেই ঐতিহ্য আর বিশ্বাসের মেলবন্ধন এখনও অটুট।
রাতের অন্ধকারে অট্টহাসের গর্ভগৃহের রহস্য আজও সাধারণের অচেনা। কিন্তু সেই গভীর রহস্যের আড়ালেও ফুটে ওঠে পরম সাত্ত্বিকতার আলো। প্রাচীন এই সতীপীঠে কোনও বলিপ্রথা নেই। দেবী এখানে হিংসা পছন্দ করেন না, চান শুধুই নিখাদ আত্মনিবেদন। চার দিন ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে চলে মাতৃ আরাধনা। আর সেই আরাধনার মূল ভিত্তি কী তা জানেন? সম্পূর্ণ নিরামিষ এবং শুদ্ধতম ভোগ।
মায়ের অন্নভোগ ও নৈবেদ্য কেবল খাবারের থালা নয়, তা পরম ভক্তির প্রতীক। যেখানে ভক্তি নিবেদিত হয়, সেখানে বিন্দুমাত্র অপবিত্রতার স্থান নেই। এই কারণেই শাস্ত্র মতে মাতৃভোগের চাল হতে হয় অনন্য, সর্বাঙ্গীন শুদ্ধ এবং একদম খাঁটি। এই প্রথা আর বিশ্বাসের যোগ্য উত্তরসূরি হল ‘লালবাবা রাইস’।
মায়ের অন্নভোগ ও নৈবেদ্য কেবল খাবারের থালা নয়, তা পরম ভক্তির প্রতীক। যেখানে ভক্তি নিবেদিত হয়, সেখানে বিন্দুমাত্র অপবিত্রতার স্থান নেই। এই কারণেই শাস্ত্র মতে মাতৃভোগের চাল হতে হয় অনন্য, সর্বাঙ্গীন শুদ্ধ এবং একদম খাঁটি। এই প্রথা আর বিশ্বাসের যোগ্য উত্তরসূরি হল ‘লালবাবা রাইস’।
অট্টহাসের প্রাচীন ঐতিহ্যে যেমন কোনও ফাঁকি নেই, ঠিক তেমনই দেবী অধরেশ্বরীর অন্নভোগের থালাতেও চালের গুণমানে সমঝোতা চলে না। প্রতি বছর সপ্তমীর পুণ্য লগ্নে ঘটে পুজো শুরুর পর থেকেই মায়ের ভোগ তৈরিতে প্রয়োজন হয় নিখুঁত অখণ্ড তণ্ডুল। লালবাবা চালের প্রতিটি দানা যেন সেই ভক্তি ও শ্রদ্ধার প্রতীক। মায়ের ভোগে নিবেদিত পাঁচ রকম ভাজা, ডাল, সবজি আর পায়েসের মিষ্টি সুবাসের সঙ্গে মিশে যায় এই চালের স্নিগ্ধ শুদ্ধতা।
সংস্কৃতে বলা হয়, ‘অন্নং বৈ ব্রহ্ম’— অন্নই ব্রহ্মের রূপ। আর যখন সেই অন্ন সতীর পীঠস্থানে দেবীর চরণে নৈবেদ্য হিসেবে অর্পিত হয়, তখন শুদ্ধতার মাপকাঠি হওয়া চাই নিখাদ। তাই তো কেতুগ্রামের প্রাচীন অট্টহাস থেকে শুরু করে বাঙালির ঘরের পুজো-সাত্ত্বিক অন্নভোগের বিশ্বস্ত নাম লালবাবা রাইস। এ পুজোয় মায়ের আরাধনায় ভক্তির সঙ্গে যুক্ত হোক খাঁটি চালের শুদ্ধতা।
দেখুন ভিডিও: