বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় গত ১৮ দিনে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে মোট ১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার ঋণের আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৬০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও ৯২৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতে এ কর্মসূচির আওতায় ঋণের আবেদন জমা পড়েছিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকার। তখন আটটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মাত্র ১১০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছিল। পরবর্তী ১৮ দিনে আবেদন ও ঋণ বিতরণ—দুই ক্ষেত্রেই অগ্রগতি হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সচল করার উদ্দেশ্যে গত জুনে বিশেষ এ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে কর্মসূচি ঘোষণার পর আবেদন গ্রহণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং ব্যাংকগুলোর আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লেগেছে। অক্টোবর নাগাদ এসব কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ায় ঋণ বিতরণেও গতি এসেছে।
এই কর্মসূচির আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তুলনামূলক কম সুদে অর্থের জোগান দিলেও ঋণের ঝুঁকি বহন করতে হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে। ঋণগ্রহীতার আর্থিক অবস্থা, ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে বাজারে টিকে থাকার সম্ভাবনা যাচাই করে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে। ফলে আবেদন জমা পড়লেই অর্থ পাওয়া নিশ্চিত হচ্ছে না; নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।
কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকে ঋণের আবেদন জমা দেয়। ব্যাংক নিজস্ব মূল্যায়নের মাধ্যমে আবেদন যাচাই করে যোগ্য মনে করলে তা অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ঋণ বিতরণ করা হয়।
তবে তৈরি পোশাক খাতের কারখানাগুলোর অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করায় নিরীক্ষা শেষে প্রায় ২০০টি পোশাক কারখানাকে এ কর্মসূচির জন্য প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংগঠনটির দাবি, এখন পর্যন্ত এসব কারখানার কোনোটি তহবিল পায়নি।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, তাঁদের জানা মতে, এ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত কোনো পোশাক কারখানা অর্থ পায়নি।
একদিকে সামগ্রিকভাবে ঋণ বিতরণে অগ্রগতি দেখা গেলেও অন্যদিকে পোশাক কারখানাগুলো অর্থায়ন না পাওয়ার অভিযোগ কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফেরাতে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে এগোয়, এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
-20261018140633.jpg&w=1440&q=75)