

নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা মিত্র কলেজের সামনে দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মুক্তা রানী বিশ্বাস (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গোবরা বাজার আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তা রানী বিশ্বাস সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের উত্তর খলশেখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গণেশ সরকারের স্ত্রী এবং পেশায় একজন রংমিস্ত্রি ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে মুশুড়িয়া গ্রামের একটি বাড়িতে রং করার কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন মুক্তা রানী। পরে গোবরা বাজারে পৌঁছে সহকর্মী নির্মল সর্দারের মোটরসাইকেলে করে মুশুড়িয়ার দিকে রওনা হন। পথে গোবরা মিত্র কলেজের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন মুক্তা রানী। এ সময় ধাক্কা দেওয়া মোটরসাইকেলটির চালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত মুক্তা রানীকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।#
উলিপুরে আমন ধানে ছাতরা পোকার আক্রমণ, ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
কুড়িগ্রামের উলিপুরে আমন ধানের খেতে ছাতরা পোকার (মিলিবাগ) আক্রমণ দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধানখেতে এ পোকার বিস্তার বাড়ায় ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা। আক্রান্ত জমিতে বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল না পাওয়ার অভিযোগ তাঁদের। কোথাও কোথাও ধানগাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে আমন ধানের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমনখেত ঘুরে দেখা যায়, আক্রান্ত ধানগাছের কাণ্ড ও পাতার খোলে সাদা তুলা বা মোমের মতো আবরণ তৈরি হয়েছে। এর নিচে ছোট ছোট ছাতরা পোকা অবস্থান করছে। আক্রান্ত গাছের পাতা প্রথমে হলুদ হয়ে যাচ্ছে, পরে পোড়া পোড়া ভাব নিয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো জমিতে ধানগাছের বড় অংশ হলুদ হয়ে পড়েছে। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগের বছরগুলোতে এলাকায় আমন ধানে এ পোকার আক্রমণ তেমন দেখা যায়নি। তবে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন এলাকার জমিতে এর উপস্থিতি বেড়েছে। আক্রান্ত জমিতে বালাইনাশক প্রয়োগ করেও অনেক কৃষক উপকার পাচ্ছেন না। ফলে বাড়তি খরচের পাশাপাশি ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উলিপুরে ২৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর, উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ২১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ১ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। উলিপুর পৌরসভার নারিকেলবাড়ি গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলামের ৪০ শতক জমির প্রায় অর্ধেকের ধান হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ কিনে স্প্রে করেছি। কিন্তু কোনো সুফল পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে ধানের ফলন কমে যাবে। এ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।” ধামশ্রেণী ইউনিয়নের খাওনারদরগা এলাকার কৃষক আকবর আলী বলেন, “এবার এক একর ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন ধান লাগাইছি। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে ছাতরা পোকা ধরেছে। অনেক ওষুধ দিছি, তেমন কাজ হয় নাই। এবার তো পুরো লস হওয়ার মতো অবস্থা।” ওই ইউনিয়নের কাশিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক লাল মিয়ার ২০ শতক এবং ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের সাতকুড়ার পাড় গ্রামের কৃষক মজিদ মিয়ার ২৫ শতক জমিতেও একই ধরনের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। গুনাইগাছ ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকার কৃষক আব্দুর রহমানের প্রায় ২৫ শতক জমির ধানও এ পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক প্রয়োগ করেও তেমন ফল পাওয়া যায়নি। আক্রান্ত ধানগাছগুলো শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মতো দেখাচ্ছে।” উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ছাতরা পোকা কোনো রোগ নয়; এটি ধানগাছের রস শোষণকারী ক্ষতিকর পোকা। এর আক্রমণে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং পাতা হলুদ হয়ে যায়। আক্রমণ তীব্র হলে গাছ শুকিয়েও যেতে পারে। আগের বছরগুলোতে এ এলাকায় আমন ধানের খেতে এ পোকার উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, খরা ও জমিতে পানির স্বল্পতার কারণে ছাতরা পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে। আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংস করা, জমিতে সেচ দেওয়া এবং অনুমোদিত বালাইনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ মো. রওশন কবির বলেন, খরার কারণে জমিতে ছাতরা পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে। এ পোকা দমনে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে অনুমোদিত বালাইনাশক প্রয়োগ করলে এ পোকা দমন করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

আড়াইহাজারে পরকিয়া প্রেমিকের ভাড়া বাসায় প্রেমিকার স্বামীর বস্তাবন্দী লাশ, স্ত্রী আটক
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পরকিয়া প্রেমিকের ভাড়া বাসা থেকে প্রেমিকার স্বামী নাদিম আকন্দ (৩৬) এর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে আড়াইহাজার থানা পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। এর আগে ১৪ অক্টোবর থেকে ভিকটিম নাদিম আকন্দ নিখোঁজ ছিলেন বলে পুলিশ জানায়। নাদিম আকন্দ কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার উত্তর জাঙ্গালিয়া এলাকার জসিমউদ্দিনের পুত্র এবং দুপ্তারা ইউনিয়নের কালিবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী খাদিজাকে আটক করেছে থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, ১৬ অক্টোবর সকাল অনুমান সাড়ে ৮ টায় দুপ্তারা ইউনিয়নের দড়ি সত্যভান্দী গ্রামের বাতেনের ভাড়া দেওয়া টিনের ঘরের ভিতরে বস্তাবন্দী লাশ পাওয়া যায়। ঘরের ভিতর থেকে গন্ধ বের হলে বাতেনের ছেলে উক্ত বিষয়ে থানা পুলিশকে অবহিত করে। প্রাথমিকভাবে জানা যায় ভিকটিমের স্ত্রী খাদিজার সঙ্গে নড়াইল জেলার জনৈক হাকিম মোল্লা এর সাথে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ সম্পর্ক চলে আসছে। ভিকটিমের স্ত্রী খাদিজার সাথে পরকীয়া প্রেমিক হাকিমের অবৈধ সম্পর্কের জের হিসাবে উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। সংবাদ পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য লাশ সরকারি ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নারায়ণগঞ্জ মর্গে প্রেরন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসনে জানান, এ বিষয়ে ভিকটিমের স্ত্রী খাদিজাকে আটক করা হয়েছে। পরকিয়া প্রেমিক হাকিম মোল্লা পলাতক রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক সিংগাইর থানার তদন্ত ওসি মো. রেজাউল করিম
মাদক উদ্ধার, ইভটিজিং ও অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, আসামী গ্রেফতার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিথি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদান রাখায় মানিকগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সিংগাইর থানার তদন্ত ওসি মো. রেজাউল করিম (পিপিএম)। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মাসিক অপরাধ সভায় তাঁর হাতে শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শকের সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলেদেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিংগাইর থানার তদন্ত ওসি রেজাউল করিম (পিপিএম) মাদক উদ্ধার, ইভটিজিং প্রতিরোধ, মামলা তদন্ত, আসামী গ্রেফতার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিথি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন ও পেশাগত কাজ করে বিশেষ ভুমিকা রাখেন। একারণে সর্ব মহলে প্রশংসিত হন তিনি। এরই অংশ হিসেবে জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়। ওসি তদন্ত রেজাউল করিম বলেন, কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ এই পুরস্কার আমার কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে। এবং ভালো কাজ করতে আরও উৎসাহিত করবে। আমি সব সময় চেষ্টা করি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করার। আমি কখনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করি না। তিনি বলেন, এই সফলতা অর্জনের পেছনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম, সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফাহিম আসজাদ, থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাজহারুল ইসলামসহ থানার সকল পুলিশ সদস্যের অবদান রয়েছে। আমি সবার প্রতি চির কৃতজ্ঞ। এছাড়াও জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নির্বাচিত হয়েছেন সিংগাইর থানার এএসআই মো. আনওয়ারুল ইসলাম। মাদক উদ্ধার,অপরাধ দমন ও ওয়ারেন্ট তামিলে বিশেষ অবদান রাখায় তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই হিসেবে মনোনীত করা হয়। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মহরম আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সালাউদ্দিন, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) সাদিয়া সাবরিনা চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) ফাহিম আসজাদ ও সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলামসহ জেলার ৭ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গাপূজা ঘিরে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ২৩ বিজিবি
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ উপলক্ষে খাগড়াছড়ির যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি) সীমান্তবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২৩ বিজিবি আরও জানান , দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, জননিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবি বদ্ধপরিকর। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সব ধর্মাবলম্বীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, শাান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তাজমিন হত্যাকাণ্ড: প্রেমিক রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর কারাগারে থাকা কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা আবেদন করেন কক্সবাজারের আইনজীবী মোহাম্মদ রাশেদ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করতে সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কক্সবাজার সদর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইরফানুল হক চৌধুরীর আদালতে আইনজীবী রাশেদ নিশ্চিত করেন রাজুই তাজমিনকে ফুসলিয়ে কক্সবাজার এনেছিল এবং ধর্ষণ করেছে বলে অবহিত করেন। একই সঙ্গে তাজমিনের বয়সের বিষয়টিও জানানোর পর আদালত ধর্ষণ মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একজন আইনজীবী বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আইনজীবী রাশেদ বলেন, তাজমিনকে যদি রাজু কক্সবাজার না আনতো তাহলে কুমিল্লা যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটতো না এবং সে কিশোরী তাকে মিথ্যে তথ্য দিয়ে ভালেবাসার অভিনয় করে কক্সবাজারে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। বিষয়টি হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটে এবং বিবেকের তাড়নায় তিনি মামলাটি করেন বলে জানান। আদালতের এই নির্দেশের ফলে অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার পথ তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এরআগে-তাজমিন হত্যাকাণ্ড ঘিরে একের পর এক ঘটনায় তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন। কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজারে আসে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাজুকে কুমিল্লায় নেয়া নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। কুমিল্লা পুলিশ তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানালে, শেষ পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রাজুকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


