রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে কুর্শা ইউনিয়নের মহেষা দর্গারপাড় এলাকার একটি পুকুর থেকে তাহমিনা খাতুন (২৫) নামের এক বাক ও মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করার পর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তা ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
নিহত তাহমিনা খাতুন কাউনিয়ার হারাগাছ পৌরসভার ফাতাংটারী গ্রামের মোরসেলিমের মেয়ে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুর দুইটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তার বাবা মোরসেলিম রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন মীরবাগ মহেষা দর্গারপাড় এলাকার আতোয়ারের পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে কাউনিয়া থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পোশাক দেখে মরদেহটি নিখোঁজ তাহমিনার বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের ভাই আলমগীর হোসেন জানান, তার বোন জন্মগতভাবেই বাক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এবং শারীরিক দিক থেকেও বেশ দুর্বল ছিলেন। মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আশপাশের বাড়ি বা বাজারে চলে যাওয়ার প্রবণতা থাকায় তাকে নজরে রাখা হতো। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে সবার অগোচরে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। ধারণা করা হচ্ছে, শারীরিক দুর্বলতার কারণে ঘুরতে ঘুরতে তিনি ওই এলাকায় পৌঁছে কোনোভাবে পুকুরের পানিতে পড়ে মারা গেছেন।
কাউনিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বাদল কুমার মন্ডল জানান, তরুণীটির কাছে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড রয়েছে এবং তিনি হারাগাছ থানার এলাকা থেকেই নিখোঁজ হয়েছিলেন। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
