আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার জেরে পুজোর বাকি দিনগুলোতে পুজোর ভিড়, নিরাপত্তা ও পুলিশি ব্যবস্থা তদারকিতে কলকাতা পুলিশকে সহায়তা করতে ন'জন আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুজোর ভিড় সামলানো, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং পুলিশি ব্যবস্থাপনার তদারকিতে কলকাতা পুলিশকে সহায়তা করাই তাঁদের এই দায়িত্বের মূল উদ্দেশ্য।
পুলিশ সূত্রের খবর, ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর, অর্থাৎ আজ, দ্বিতীয় সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত তাঁরা কলকাতায় পুজোর পুলিশি ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির কাজে যুক্ত থাকবেন। নির্দেশ অনুযায়ী, আজ বিকেল ৪টের মধ্যে তাঁদের রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তালিকায় রয়েছেন শুভঙ্কর ভট্টাচার্য, মীরাজ খালিদ, রূপেশ কুমার, তরুণ হালদার, সৌম্য রায়, প্রিয়ব্রত রায় ও দীপক সরকার। এ ছাড়া রয়েছেন সুমনজিৎ রায় এবং মেহমুদ আখতার। সকলেই আইপিএস।
শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের কারণে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো। কলকাতা পুলিশের তরফে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভারতীয় ন্যয় সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-র ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরেই রাজ্য সরকার ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করেছে। কলকাতা পুলিশও ০৩৩ ২২১৪১৩১০ টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করেছে। মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ এবং চিকিৎসার সব খরচ বহনের দায় নিয়েছে রাজ্য সরকার।
চোরবাগানের বিপর্যয়ে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভাকে বাদ না দিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তদন্তের নেতৃত্বে থাকবেন কলকাতা হাই কোর্টের একজন বর্তমান বিচারপতি। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নীচে নন, এমন এক আধিকারিক, ডিজিপির প্রতিনিধি হিসেবে এডিজি পদমর্যাদার আধিকারিক এবং এনডিআরএফের একজন প্রতিনিধি থাকবেন। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির অনুমতি চাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের হয়েছে। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা এবং দমকলের মতো সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মণ্ডপের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আসবে।
