নিয়মিত গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডকে বিশ্রামে রেখেও চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে গোলের উৎসবে মেতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গ্রিসের ক্লাব এএইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে এনজো মারেস্কার দল। সিটিজেনদের এই বড় জয়ের রাতে একাই হ্যাটট্রিক উপহার দিয়েছেন ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ফিল ফোডেন। দলের জয়ে বাকি দুটি গোল করেছেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও রায়ান শেরকি। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরে যাওয়ার পর এই জয়ে ইউরোপের শীর্ষ মঞ্চে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ম্যানচেস্টার সিটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে গ্রিক ক্লাবটির ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখে সিটি। খেলার দ্বাদশ মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে যায় স্বাগতিকরা; এনজো ফার্নান্দেজের চমৎকার ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন, যা সিটির জার্সিতে তাঁর প্রথম গোল। এরপর ৩৪তম মিনিটে রিকো লুইসের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর বল পেয়ে জোরালো কোনাকুনি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি আক্রমণ সাজালেও শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় মারেস্কার শিষ্যরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে এএইকে এথেন্স। ৫২তম মিনিটে পরিকল্পিত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন দলটির ডিফেন্ডার স্তাভরোস পিলিওস। তবে সফরকারীদের সেই স্বস্তি স্থায়ী হতে দেননি ফোডেন ও শেরকি জুটি। গোল হজমের মাত্র পাঁচ মিনিট পর (৫৭তম মিনিটে) ফোডেনের সাজিয়ে দেওয়া পাস পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন ফরাসি উইঙ্গার রায়ান শেরকি, যা সিটিকে আবারও সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দেয়।
এরপর ম্যাচের বাকি সময়টা ছিল পুরোপুরি ফিল ফোডেনের নিয়ন্ত্রণে। ৬৫তম মিনিটে লুইসের বাড়ানো আরেকটি পাস ধরে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। পরবর্তীতে ৭৬তম মিনিটে বদলি নামা রায়ান ম্যাকঅডুর ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। মৌসুমের শুরুতে প্রায় ১০ মাস গোল না পেয়ে ছন্দহীনতায় ভোগা ২৬ বছর বয়সী এই তারকা গত সপ্তাহান্তে ইপসউইচ টাউনের পর এবার টানা দ্বিতীয় ম্যাচে লক্ষ্যভেদ করলেন, যার ফলে শেষ দুই ম্যাচেই তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল চারে।
ম্যাচে দলের মূল ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ড পুরো সময় বেঞ্চে বসে কাটালেও আক্রমণভাগে কোনো ঘাটতি বুঝতে দেননি অন্য খেলোয়াড়েরা। নরওয়েজিয়ান তারকার জায়গায় শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ১৭ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার ফ্লয়েড সাম্বা, যিনি ইতিহাদের বড় মঞ্চে নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। হালান্ডকে ছাড়া তরুণ ও নিয়মিত খেলোয়াড়দের এই সমন্বিত পারফরম্যান্স সিটির ড্রেসিংরুমে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
