জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ভাইকে গভীর রাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেপ্তার এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিলাদুন নবী ও উপপরিদর্শক (এসআই) জবাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে থানার সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যক্তি হলেন রুহিয়া ইউনিয়নের ঘুরানগাছ এলাকার মৃত সফিরুদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন (৩৫) ও বদিউজ্জামান (৪০)। শনিবার গভীর রাতে নাজমীন আক্তারের দায়ের করা একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকাল থেকেই এলাকাবাসী রুহিয়া থানার সামনে জড়ো হতে শুরু করেন এবং দুপুরের দিকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে থানার সামনে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশি হয়রানি ও ঘুষ গ্রহণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের কোনো রকম সুষ্ঠু তদন্ত না করেই গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আরেক ভাই রশিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিপক্ষ নাজমীন আক্তার ও আরিফ হোসেনের পরিবারের সাথে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। জমি কেনাবেচার বিষয়ে পূর্বে আর্থিক লেনদেন ও বায়না হলেও প্রতিপক্ষের নানা টালবাহানায় তা রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তীতে জমিতে চাষাবাদ ও ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং প্রায় বিশ দিন আগের একটি মারামারির ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে এই মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার পরিচালনা করেছে।
তবে সুনির্দিষ্ট এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিলাদুন নবী জানান, আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগটি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ভুক্তভোগী নারীর দেওয়া সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ ও মারামারির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনানুগভাবে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুপুরের দিকে কিছু উত্তেজিত লোকজন থানার সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালালেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত করা হয় এবং ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত দুই ভাইকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
