নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জখম আরও অন্তত ২৫ জন। আহতদের অধিকাংশকে মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এন আর এস এবং আর জি কর মেডিকেল কলেজে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক অতীতে কলকাতায় এমন ঘটনার কোনও নজির নেই।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন পদস্থ আধিকারিকরা। আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পুজো কমিটির দু’জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে সূত্রের খবর।
কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় চোরবাগানের পুজো। প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ প্রতিমা দর্শনের জন্য আসেন। এবছরও মহালয়ার পর থেকে মানুষের ঢল নেমেছিল। আজ সন্ধ্যায় ঘটে গেল মর্মান্তিক কাণ্ড। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। সে সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকা। এই দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কন্ট্রোল রুম খুলল লালবাজার। ফোন নম্বর: ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ ও ০৩৩২২১৪১৩১০।
জানা গিয়েছে, এবছর পুজো মণ্ডপে প্রবেশ-বেরোনোর জন্য দু’টি পথ ছিল। তার মধ্যে একটি নির্ধারিত ছিল ভিআইপিদের জন্য। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের একাংশের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত ঢোকা-বেরোনোর পথের তুলনায় ভিআইপি গেট প্রশস্ত করা হয়। তাছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে বেরোনোর কোনও রাস্তা ছিল না। কলকাতা পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, পরিদর্শনের সময় পুজোমণ্ডপের সংকীর্ণ পথ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল দমকলের তরফে। পুজো কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু তারা কানে তোলেনি বলে অভিযোগ।
