উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে একই রাতে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকের সুবাদে ম্যানচেস্টার সিটি ৫-১ গোলে হারিয়েছে এইকে এথেন্সকে। অন্যদিকে, দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েছে লিভারপুল। ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে, প্রায় বিনা চাপে, ৫-১ গোলে। লিভারপুল দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়েছে ৪-৩ গোলে। সেই ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরতে এনজো মারেসকার দল দল বেছে নিল এইকে এথেন্সকে। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ী দল থেকে এই ম্যাচে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন ইরাওলা।
গত সপ্তাহে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে এনজো মারেসকার শিষ্যরা এদিন মাঠেই নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল। ম্যাচের শুরুতেই এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লাগলে ফিরতি বলে গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। এরপর রিকো লুইসের পাস থেকে দারুণ শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফিল ফোডেন। উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল পিএসজি। গত সপ্তাহেই ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে এইকে এথেন্স ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেলেও সিটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। ফিল ফোডেনের পাস থেকে গোল করেন রায়ান শেরকি। এর কিছুক্ষণ পরেই ফোডেন তাঁর নৈপুণ্যে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ম্যাচে তিন গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তাও করেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার, যা ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটির দাপট নিশ্চিত করে। একটু পরে অ্যালানের শট আটকে যায় পোস্টে। গত সপ্তাহান্তে ডিসেম্বরের পর প্রথম গোল পেয়েছিলেন এই ইংলিশ তারকা। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শটেই সিটির রক্ষণ ভেদ করেন স্ট্যাভ্রোস পিলিওস। প্রথম স্পর্শেই বল পাঠান পোস্টের কোনায়। তিন গোল করার সঙ্গে একটিতে সহায়তা, সব মিলিয়ে ইতিহাদে একেবারে ফোডেনের রাত। রায়ান গ্রাভেনবার্চকে পাঠান রাইট ব্যাক পজিশনে।
অ্যানফিল্ডের চিত্রটা ছিল ভিন্ন।
ম্যাচের শুরুতেই ভিয়ারিয়ালের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিপদে পড়েছিল লিভারপুল। অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের ভুলে জর্জেস মিকাউতাদজে গোল করার পর সের্হি কার্দোনা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তবে ম্যাচের বয়স ৩০ মিনিট পার হওয়ার আগেই লিভারপুল ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ৩৬ মিনিটে কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের কর্নারে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে রিও এনগুমোহার চমৎকার চিপে সমতা ফেরান রোনাল্ড আরাউহো। সেখানে নায়ক লিভারপুলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা। ১১ মিনিট পর কাছ থেকে জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করেন নিজের হ্যাটট্রিকও। রেনাতো ভেইগার লম্বা বল সামলাতে ভুল করেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। আলিসনকে লক্ষ্য করে বাড়ানো তাঁর দুর্বল হেড কেড়ে নিয়ে গোল করেন জর্জেস মিকাউতাদজে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কোচ আন্দোনি ইরাওলা মাঠে নামান ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে। ম্যাক অ্যালিস্টারের সামনে ফাঁকা জালের সুযোগ তৈরি করে দেন এনগুমোহা, যা থেকে লিভারপুল ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর নিজের অভিষেক গোলটি পান ভির্টৎস। যদিও শেষ দিকে তানি ওলুওয়াসেই ভিয়ারিয়ালের হয়ে একটি গোল শোধ করেছিলেন, তবুও ৪-৩ গোলের জয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। আলেক্সান্দার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে রেখেছিলেন বেঞ্চে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরাউহোর জায়গায় ভির্টৎসকে নামান ইরাওলা।
The post ফোডেনের হ্যাটট্রিকে ম্যান সিটির জয়, লিভারপুলের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন appeared first on Daily Sangbad Chorcha.
