The Sangbad · সাধারণ
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: শাহবাগে প্রতিবাদ, সরকারকে আলটিমেটাম
২৩/১০/২০২৬

সৌদি আরবে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা সরকারের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন।সমাবেশে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘প্রবাসীদের বিনা বিচারে, বিনা নোটিসে বিচারের নামে হত্যা করে তাদের লাশ যখন বাংলাদেশে পাঠানোর পরিস্থিতি হয়েছে, তখন বাংলাদেশের মানুষ এদের কাছে যে প্রশ্ন তুলছে এবং একজন মন্ত্রী যে উত্তর দিচ্ছে, তা আগের ফ্যাসিস্ট সরকারগুলোর চাইতে অনেক বেশি নৃশংস।’তিনি সরকারের কাছে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘এই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যারা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে সরকার কী ভূমিকা নেয়, তা আমরা দেখতে চাই। যদি পদক্ষেপ না নেয়, এই সরকারের এই মন্ত্রীদের পদ থেকে অপসারণের জন্য প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আমরা লড়াই সংগ্রাম শুরু করব।’প্রবাসীদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাসে যারা আছেন, যারা মামলায় ভুগছেন, যারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাদের পক্ষে আপনারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, তা আগামী সাত দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে এবং প্রবাসীদের জানাতে হবে। অন্যথায় প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাবে কিনা সেটা তারা বিবেচনা করবে।’নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘অল্টারনেটিভস’-এর সংগঠক তাসনূভা জেবিন বলেন, ‘সৌদি সরকার বাংলাদেশের দুইজন নাগরিকের শিরশ্ছেদ করার আগে কোনো ধরনের জবাবদিহিতার প্রয়োজন মনে করেনি। আমরা এর তীব্র ধিক্কার জানাই। যে দেশে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নারী শ্রমিককে নির্যাতিত করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, সেই দেশ কোন আইনের আওতায় বাংলাদেশকে না জানিয়ে দুই নাগরিকের শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে? এর জবাব বাংলাদেশ সরকারকে চাইতেই হবে এবং আমরা সরকারকে বাধ্য করব সৌদি সরকারের কাছে জবাব চাইতে।’মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ওই দুজন জেলে থাকলেও কেন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা পাননি, সেই প্রশ্নও তুলে ধরেন তিনি।শিক্ষক, গবেষক মাহা মির্জা বলেন, ‘প্রবাসী শ্রমিকরা শুধু টাকা বানানোর যন্ত্র নয়। তাদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের। এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ আমরা চাই না আগামী চার বছরে আবার ৩০ হাজার কফিন ফিরে আসুক।’তিনি প্রবাসীদের তালিকা তৈরি, দূতাবাসের সহায়তা এবং ভুয়া কাগজপত্রে অর্থ আত্মসাৎকারী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗