আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষা ছিল দীর্ঘদিনের। অবশেষে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হলো আলিস আল ইসলামের। কিন্তু অভিষেকের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশের এই রহস্যময় স্পিনার। তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ম্যাচ কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরির লড়াইয়ের শুরুতেই বড় এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন ২৯ বছর বয়সী এই অফ স্পিনার।
আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় বুধবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের অফ স্পিনার আলিস আল ইসলামের বিরুদ্ধে। ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনে ২৯ বছর বয়সী এই স্পিনারের বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।’
আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আইসিসির অবৈধ বোলিং অ্যাকশনসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, আলিসকে আইসিসি স্বীকৃত পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বাধীন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সন্দেহজনক অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে অভিযুক্ত বোলারদের পর্যালোচনার বিষয়ে আইসিসির নীতিমালার বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত ওয়েবপেজে পাওয়া যাবে।’
তবে অভিযোগ ওঠা আর বোলিং অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, বোলিংয়ের সময় হাত কাঁধের সমান্তরালে পৌঁছানোর পর থেকে বল ছাড়ার মুহূর্ত পর্যন্ত কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি প্রসারিত হলে সেটিকে অবৈধ বোলিং অ্যাকশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ম্যাচ কর্মকর্তারা মাঠে খালি চোখে পর্যবেক্ষণ ও নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সন্দেহ প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে পরীক্ষার মাধ্যমে।
আলিসের ক্ষেত্রেও এখন সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে। আইসিসি স্বীকৃত পরীক্ষাকেন্দ্রে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তার বোলিং অ্যাকশন বিশ্লেষণ করবেন মানবদেহের নড়াচড়া নিয়ে বিশেষজ্ঞরা। পরীক্ষায় যদি দেখা যায় তার কনুইয়ের প্রসারণ অনুমোদিত সীমার মধ্যে রয়েছে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং চালিয়ে যেতে বাধা থাকবে না। বিপরীতে অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হলে তা সংশোধন করে পুনরায় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং করতে পারবেন না তিনি।
এলিসের জন্য বিষয়টি নতুন নয়। এর আগেও তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে অভিষেকের সময়ও তার অ্যাকশন নিয়ে অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের বিপিএলেও চট্টগ্রাম কিংসের হয়ে খেলার সময় একই ধরনের সন্দেহের মুখে পড়েছিলেন তিনি। পরে পরীক্ষায় ছাড়পত্র পেয়ে আবার বোলিংয়ে ফেরেন এই স্পিনার। এবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে অভিযোগ ওঠায় তার ক্যারিয়ারে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি এলিসের জন্য অবশ্য পারফরম্যান্সের দিক থেকেও সুখকর ছিল না। ওয়ানডে অভিষেকে ৮.৩ ওভার বল করে ৪৭ রান দেন, পাননি কোনো উইকেট। বাংলাদেশ ম্যাচটি হারে সাত উইকেটে। ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও হারের পর এই পরাজয়ে ফাইনালের আগেই ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
তবে একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স কিংবা সন্দেহের প্রতিবেদন দিয়ে এলিসের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। তার বোলিং অ্যাকশন বৈধ কি না, সেটি নির্ভর করছে পরীক্ষার ফলের ওপর। এখন তাই অভিষেকের স্মৃতির পাশাপাশি অপেক্ষা করতে হবে সেই পরীক্ষার সিদ্ধান্তের জন্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার লড়াইয়ে এলিসের সামনে এটিই হয়ে উঠেছে প্রথম বড় পরীক্ষা!
