চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিয়মিত ও বিশেষ ই-নিলামে ১৩৩ লট পণ্য বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া এসব পণ্যের ক্রেতাদের বিক্রয়মূল্য ও প্রযোজ্য কর-ভ্যাট পরিশোধ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পণ্য খালাস নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস না নিলে বিক্রির অনুমোদন বাতিলের পাশাপাশি জামানত বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গত ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নিলাম কমিটির সভার সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কাস্টমসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিয়মিত ই-নিলামে ১০৩ লটে মোট ১৪৮টি কনটেইনারের পণ্য তোলা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৫ লটে থাকা ৭৩টি কনটেইনারের পণ্য বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একটি লটের বিক্রি বাতিল করা হয়েছে। দুটি লটের ৯টি কনটেইনারের পণ্য সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪৬টি লট অনুমোদন পায়নি এবং ৯টি লটের ১৩টি কনটেইনারের পণ্যে কোনো দরপ্রস্তাব পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বিশেষ ই-নিলামে ৯২ লটে মোট ২৭৮টি কনটেইনারের পণ্য তোলা হয়। এর মধ্যে ৮৮ লটে থাকা ২৭৪টি কনটেইনারের পণ্য বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি একটি লট সাময়িক স্থগিত এবং তিনটি লটের বিক্রি বাতিল করা হয়েছে। দুই নিলাম মিলিয়ে মোট ১৩৩ লটের পণ্য বিক্রির অনুমোদন পেয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুমোদন পাওয়া লটের ক্রেতাদের আদেশ প্রকাশের তারিখ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিক্রয়মূল্য এবং প্রযোজ্য অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট পরিশোধ করে পণ্য খালাস নিতে হবে। এ সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস করলে গুদামভাড়া দিতে হবে না।
তবে নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাসে সমস্যা হলে কারণ উল্লেখ করে কমিশনারের কাছে আবেদন করা যাবে। যৌক্তিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত দিন অতিরিক্ত সময় দেওয়া হতে পারে। রাসায়নিক পরীক্ষা বা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজন হলে আরও যুক্তিসংগত সময় দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
নির্ধারিত বা বর্ধিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস না করলে গুদামভাড়া আরোপ, বিক্রির অনুমোদন বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।
পণ্য খালাসের আগে ক্রেতাদের আমদানি নীতি ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পণ্যের বিবরণ ও ওজন যাচাই, প্রয়োজনে রাসায়নিক পরীক্ষা এবং বিক্রয়মূল্য কাস্টমসের কোষাগারে জমা দিয়ে ডেলিভারি অর্ডারে সংশ্লিষ্ট শাখার প্রত্যয়ন নেওয়াসহ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা শর্ত পূরণ করতে হবে।
কাস্টমসের সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন জানান, নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করেই নিলামের লটগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া লটের ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল্য পরিশোধ ও পণ্য খালাসসহ সংশ্লিষ্ট সব শর্ত পূরণ করতে হবে।
The post চট্টগ্রাম কাস্টমসের দুই নিলামে ১৩৩ লট বিক্রির অনুমোদন appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
