কালবেলা · সাধারণ
সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে: অ্যাটর্নি জেনারেল
১২/১০/২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ ছুটির কারণে বিচারিক কার্যক্রমে শ্লথগতি তৈরি হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, বছরের প্রায় অর্ধেক সময় ছুটিতে থাকলে বিচার বিভাগের প্রত্যাশিত গতি বজায় রাখা কঠিন। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ছুটির ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বছরে ৩৬৫ দিনের একটি বড় অংশই ছুটির আওতায় থাকে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব দীর্ঘ অবকাশ রয়েছে। ফলে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্যদিবসের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক থাকাকালেও তিনি দীর্ঘ ছুটি কমিয়ে আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার মতে, দীর্ঘ অবকাশের কারণে বিচার বিভাগে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না। অন্যদিকে, বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ও বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষার সময়ও কমানো যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ছুটির সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘ ছুটিতে বিচারপতিরা অসমাপ্ত রায় লেখার কাজ শেষ করবেন- এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা সব ক্ষেত্রে পূরণ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মাসের পর মাস একটি রায়ও লেখা হয় না। মূলত কাজের প্রতি সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। তার মতে, শুধু দীর্ঘ ছুটি রাখলেই অসমাপ্ত রায় লেখার কাজ শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ছুটির বাইরে সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত দীর্ঘ অবকাশ বিচারপ্রার্থীদের জন্য জটিলতা তৈরি করছে। ছুটির সময় কমিয়ে বিচারকদের বিচারিক কাজের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা গেলে বিচারাধীন মামলার জট কমানো এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
এদিকে, কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের ভবিষ্যৎ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এসব শিশুর বেড়ে ওঠা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি সামাজিক ও পারিবারিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা পর্যালোচনা করা এবং শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় বিচারাধীন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তার মতে, এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗