আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর এশিয়ার অর্থনীতি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।
এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি আগামী বছর কমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের বিনিয়োগে গতি কমে আসা ও বিশ্ববাজারে বন্ডের ইল্ড বাড়ার প্রভাব এশিয়ার অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা এ অঞ্চলের আর্থিক বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। খবর রয়টার্স।
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর এশিয়ার অর্থনীতি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। এপ্রিলে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় এ হিসাব কিছুটা বেশি। তবে ২০২৫ সালে অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ। অর্থাৎ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুই বছরে এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফের বার্ষিক বৈঠকে বৃহস্পতিবার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থাটি।
আইএমএফ জানায়, একই সঙ্গে অঞ্চলটির উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিতে ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে। এআই খাতের উত্থানের কারণে এশিয়ার উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এসব দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি বছর শেষে তা বেড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।
অন্যদিকে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোই হবে অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। তবে জ্বালানির দাম বাড়ায় এসব দেশে প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে। গত বছর অঞ্চলটির উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৬ সাল শেষে তা কমে ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরির পর এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ও মূলধনপ্রবাহে অস্থিরতা বেড়েছে। কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রার ওপর অবমূল্যায়নের চাপও তৈরি হয়েছে। অঞ্চলটিতে বিদেশী বিনিয়োগের প্রবাহ মোটামুটি শক্তিশালী থাকলেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাত থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের মতো ঘটনাও দেখা গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোজোন ও জাপানের মতো বড় অর্থনীতিতে সরকারি বন্ডের ইল্ড বাড়লে এর প্রভাব এশিয়ার বাজারেও পড়তে পারে বলে উল্লেখ করা আছে প্রতিবেদনে। এতে অঞ্চলটির সুদহার আরো বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারের ঋণ ও সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আইএমএফের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পণ্যবাজারে উচ্চমূল্য বজায় থাকতে পারে ও তেলের মজুদ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। অন্যদিকে এআই খাতে চাহিদা কমে গেলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এশিয়ার বহু দেশের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা এআই খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এ অঞ্চলে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, ‘এশিয়ায় ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা এখনো খুব বেশি নয়, তবে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে প্রয়োজনে সুদহার বাড়ানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারীর আগের সময়ের তুলনায় এশিয়ার অনেক দেশে সরকারি ঋণ এখনো অনেক বেশি। ফলে নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ কমে আসছে। তাই জ্বালানিতে ব্যাপক ভর্তুকি বা মূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা উচিত। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট খাতে সীমিত সময়ের জন্য সহায়তা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।’
