শারদীয় উৎসবের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ মহাসপ্তমী তিথি আজ। ঘটের পাশাপাশি আজ থেকে দেবী প্রতিমাতে পূজা শুরু। হয়েছে দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা। ষোল উপাচারে পূজিত হবেন দেবী।
এদিন নবপত্রিকা পূজা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। সেই সাথে প্রতিমাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠার কার্যাদিও।
শাস্ত্র অনুসারে নবপত্রিকার ৯টি উদ্ভিদ দেবী দুর্গার ৯টি বিশেষ রূপের প্রতিনিধি রূপে পূজিত হয়। এই ৯ দেবী হলেন ব্রহ্মাণী, কালিকা, উমা, কার্তিকী, শিবা, রক্তদন্তিকা, শোকরহিতা, চামুণ্ডা ও লক্ষ্মী। এই নয় দেবীকে একত্রে ‘নবপত্রিকাবাসিনী নবদুর্গা’ নামে পুজো করা হয়। নবপত্রিকা নয়টি পাতা নয়, নয়টি উদ্ভিদ। এগুলি হল-কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান ও ধান। পাতাসহ একটি কলাগাছের সঙ্গে বাকি আটটি শিকড় ও পাতাসহ উদ্ভিদ একসঙ্গে করে একজোড়া বেলসহ শ্বেত অপরাজিতার লতা দিয়ে বেঁধে লালপাড় সাদা শাড়ি জড়িয়ে ঘোমটা দেওয়া বধূর মতো আকার দেওয়া হয়। তারপর তাতে সিঁদুর দিয়ে সপরিবার দুর্গা ঠাকুরের ডান দিকে গণেশের পাশে দাঁড় করিয়ে পুজো করা হয়। প্রচলিত ভাষায় এর নাম নবপত্রিকা বা কলাবউ। পুজোমণ্ডপে নবপত্রিকা প্রবেশের মাধ্যমে পুজোর মূল অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়। এর পর দর্পণে দেবীকে মহাস্নান করানো হয়। এরপর বাকি দিনগুলিতে নবপত্রিকা অন্য দেবদেবীদের সঙ্গেই পূজিত হয়।
গবেষকদের মতে, নবপত্রিকার পুজো প্রকৃতপক্ষে শস্যদেবীর পুজো। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির এই দেশে প্রায় ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপের সঙ্গেই কৃষিকাজ জড়িত। বিভিন্ন দুর্গাপুজোর বিধিতে এই নবপত্রিকার বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আসলে এই সবই হল পৌরাণিক দুর্গার সঙ্গে শস্যদেবীকে মিলিয়ে দেওয়ার একটা সচেতন চেষ্টা। বেলতলায় যেমন দেবী দুর্গার অধিবাস হয়, তেমনি নবপত্রিকারও অধিবাস হয়। এরপর এই উদ্ভিদগুলো হয়ে ওঠে দেবীর প্রতীক। কলাগাছ হন ব্রাহ্মণী। গুঁড়ি-কচু হন দেবী কালিকা। হরিদ্রা হন দেবী দুর্গা স্বয়ং। জয়ন্তীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী কার্তিকী। বেলের অধিষ্ঠাত্রী শিবা। দাড়িম বা ডালিম গাছে রক্তদন্তিকার অধিষ্ঠান। অশোকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শোকরহিতা। মানকচু গাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী চামুণ্ডা। আর ধানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষী।
এদিকে অন্য দিনগুলোর চেয়ে শুক্রবার মহাষষ্ঠীর দিনটা মন্দির মন্ডবে শুরু হয় একটু অন্যরকমভাবে। ঢাকের বাদ্য, উলুর ধ্বনি, শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত ছিল ঊষালগ্ন। শাস্ত্রমতে এ দিনেই দেবী দুর্গা কৈলাশের যাত্রা শেষ করে সপরিবারে মর্তে আগমন করেন।
ষষ্ঠীর দিনে দেবী দুর্গার ষষ্ঠী রূপ কাত্যায়নীর আরাধনা করা হয়। নবরাত্রিতে দেবীর নয় রূপের আরাধনা করা হয়। ষষ্ঠ দিনে কাত্যায়ণী রোগ, শোক, দুঃখ, কষ্ট ও ভয়কে দূর করার আশীর্বাদ প্রদান করেন। জীবনের সমস্ত সমস্যা দূর করতে ও সংসার সুখে সমৃদ্ধশালী করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। তারমধ্যে সন্তানের মঙ্গলকামনায় এদিন বাড়ির সব মহিলা ও মায়েরা দুর্গাষষ্ঠী পালন করেন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
