কালবেলা · আন্তর্জাতিক
নেহা বোরার পরিচয় ঘিরে কৌতূহল, গুগলে খোঁজা হচ্ছে যেসব তথ্য
১২/১০/২০২৬

ভারতের দিল্লিতে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে চলমান বিক্ষোভে আলোচনায় উঠে এসেছেন ২৯ বছর বয়সী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে সপ্তাহান্তে আটক হওয়া কর্মীদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। তিনি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) জাতীয় সভাপতি। খবর এনডিটিভির।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে জন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন নেহা। পরে ইনস্টাগ্রামে সরাসরি কথা বলে আন্দোলনের পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গুগলে তার পরিচয়, বয়স, বাড়ি, পড়াশোনা ও বাবার নাম জানতে চেয়ে অনুসন্ধানও বেড়ে যায়।
নেহার বাড়ি উত্তরাখণ্ডের খাটিমায়। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে স্কুলের পড়াশোনা শেষে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে পড়েন। পরে ড. বি আর আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় দিল্লিতে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিষয়ে গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত তিনি।
নেহার রাজনীতিতে আসার শুরু থিয়েটারের মাধ্যমে। পরে ২০১৯ ও ২০২০ সালে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। এরপর আইসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংগঠনটির জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব পান।
শিক্ষা ও বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয়ে ছাত্র আন্দোলন এবং বিতর্কে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার পরিচিতি বাড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও ইনস্টাগ্রামে নিয়মিত পোস্ট ও ভিডিও দিয়ে আন্দোলনের পরিস্থিতি এবং পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানিয়ে আসছেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) পুলিশ বিক্ষোভকারীদের জন্তর মন্তরে যেতে বাধা দিলে নেহা তাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের দিল্লি হাটে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।
পরে অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি আটক আছি, আন্দোলন নয়।’ পুলিশের বাধার মুখে পড়া সমর্থকদের যেখানে আছেন, সেখান থেকেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কথাবার্তায় শান্ত স্বভাবের হলেও মাইক্রোফোন হাতে বক্তব্য দেওয়ার সময় দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন নেহা। হিন্দি ও ইংরেজিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি প্রায়ই সাংবিধানিক অধিকার, বৈষম্য এবং সরকারের জবাবদিহির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
এর আগে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচি ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ অন্তত তিন হাজার মানুষকে আটক করে। বিরোধী দলগুলোও ওই কর্মসূচিকে সমর্থন দিয়েছিল। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভের অনুমতি না থাকায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব আটক করা হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
মূল প্রতিবেদনে যান ↗