Published on
:
2 min read
এই সময়: নিন্দা করেছেন অনেকেই। তবে শাস্তি পাচ্ছেন না কেউ–ই!
বিজেপির তাবড় নেতারা দফায় দফায় বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা করেছেন। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত কোনও রাখঢাক না করেই জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তাঁর মাথা নত হয়ে গিয়েছে। তবে বামেদের বুকস্টলে হামলা চালানোর অভিযোগে বিজেপির কোনও কর্মীর উপর শাস্তির খাঁড়া নামছে না। কারণ, দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এই ঘটনার সঙ্গে পার্টির কারও যোগসূত্র খুঁজে পায়নি।
এ বছর পুজোয় রাজ্যের বহু জায়গায় সিপিএম–সহ বাম দলগুলির বইয়ের স্টলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বই ছেঁড়ার সেই সব ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে বেশিক্ষণ লাগেনি। কম বয়সি কিছু যুবক হাতে গেরুয়া ঝাণ্ডা নিয়ে রাস্তায় বই ছুড়ছে, এই ভিডিয়ো এখনও সোশ্যায় মিডিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। যা মোটেই ভালো ভাবে নেননি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘বই ছেঁড়া বিজেপির সংস্কৃতি নয়। যারা এই কাজ করছে, তারা বিজেপির ক্ষতি করার জন্য করছে।’ পরে তিনি খোঁজ–খবর নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘আমাদের পার্টির কয়েকজনকে দেখা গিয়েছে, যারা দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। তাঁদের ভূমিকা সেখানে কী ছিল তা খতিয়ে দেখা হবে।’
বিজেপির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। তাদের ময়নাতদন্তে দলের কোনও কর্মীর দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠেনি। বিজেপির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রমুখ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা খোঁজ–খবর নিয়ে দেখেছি, বিজেপির কেউ বামেদের বুকস্টল ভাঙায় যুক্ত ছিলেন না। আমাদের দলের কেউ সিপিএমের স্টল ভাঙছে, এমন কোনও ছবি বা ভিডিয়ো পেলে আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ করতাম। কিন্তু সেরকম কিছু পাওয়া যায়নি।’
তা হলে সিপিএমের বুকস্টল ভাঙল কারা? প্রতাপের পর্যবেক্ষণ, ‘প্রচারের আলো পেতে সিপিএম নিজেরাই নিজেদের স্টল ভেঙেছে।’
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবাদলের পরে অনেক জায়গাতেই বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল যেমন হয়েছে, তেমনই আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। পরিবর্তনের আবহে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিল গেরুয়া শিবিরে। বিজেপি যে শৃঙ্খলাবদ্ধ দল সেই বার্তা দিতে পরিবর্তনের প্রথম দু’মাসের মধ্যেই শতাধিক বিজেপি নেতা–কর্মীকে শো’কজ়ের চিঠি ধরিয়েছিলেন প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সাসপেন্ডও করা হয়েছিল অনেককে। কঠোর হাতে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য ঘনিষ্ঠ মহলে প্রতাপের তারিফও করেছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ।
সেই সূত্র ধরেই বঙ্গ–বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘সিপিএমের স্টল ভাঙার ঘটনায় বিজেপির কেউ যুক্ত থাকলে পার্টির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি ছেড়ে কথা বলত না। কারণ, ভিন্নমতের কন্ঠরোধ করা যে বিজেপির রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, সেটা শমীক ভট্টাচার্যরা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।’ বিজেপির অন্য এক রাজ্য পদাধিকারী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পুজোর সময়ে যারা সিপিএমের স্টল ভেঙেছে, তাদের একজনেরও বিজেপির সদস্যপদ নেই।
সেক্ষেত্রে আমাদের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি শাস্তি দেবে কোন অধিকারে?’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর প্রশ্ন, ‘যদি আমাদের বুকস্টল ভাঙার ঘটনায় বিজেপির কেউ ়যুক্ত না হন, তবে প্রশাসন কেন দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না? কেন শাসক দল প্রশাসনকে বলছে না, দোষীদের গ্রেপ্তার করতে?’ তাঁর কথায়, ‘সবাই জানে বামপন্থীদের বুকস্টল কারা ভেঙেছে। শুধু বিজেপি নিজেদের লোকদের চিনতে পারছে না।’
