প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার · ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন জয়গুন নাহার। তখন তিনি ছিলেন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। যুদ্ধের পর সামাজিক অবহেলা, দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে কেটেছে তার জীবন। শেষ বয়সে এসে চেয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারী হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং থাকার মতো একটি ঘর। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার আগেই মারা গেলেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভাদাইর দেউল গ্রামের নিজ বাড়িতে তার জীবনের অবসান হয়। তার বয়স ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, দুটি কিডনি বিকল হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
শুক্রবার বিকেল ৫টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে জয়গুন নাহারকে দাফন করা হয়। বিষয়টি জানিয়েছেন শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শমশেরনগরের চাতলাপুর চা-বাগান এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে প্রায় ছয় মাস নির্যাতনের শিকার হন জয়গুন। যুদ্ধের শেষ দিকে ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি। পরে জানতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর নিমসানা আক্তার নামে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
স্বাধীনতার পরও তার জীবনে স্বাভাবিকতা ফেরেনি। নির্যাতনের স্মৃতি নিয়ে সমাজের অবজ্ঞা ও বঞ্চনার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে তাকে। পরবর্তী সময়ে সংসার গড়লেও স্বামী ও ছেলেকে হারান। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে অভাবের মধ্যে জীবন কাটছিল তার। জীবনের শেষ সময়ে এসে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং একটি স্থায়ী আশ্রয়ের প্রত্যাশা করেছিলেন জয়গুন।
বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কাজ করা মৌলভীবাজার টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর দীপঙ্কর মোহান্ত বলেন, নানা বঞ্চনার মধ্যেও জয়গুন নাহার সংগ্রাম করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও তার অবদান মানুষের সামনে তুলে ধরতে একটি অনুষ্ঠানে তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই জয়গুনের মৃত্যু হয়েছে।
জয়গুন নাহারের স্বীকৃতির আবেদনের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে তথ্য ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া জয়গুন নাহারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
