আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগান দুর্গাপুজোর বিভীষিকার রাতে পদপিষ্টের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মৃত্যুর সংখ্যা। উদ্ধার হয়েছে ১৯ জনের মৃতদেহ। ঘটনার পরদিন রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত ১৯ জনের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ১৯ জনের দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে লালবাজার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, পরিবারের হাতে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট তুলে দেওয়া হয়েছে। পায়ের চাপের কারণে ১৯ জনের মধ্যে ৮ জনের বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে। তার পরে ফুসফুস ফেটে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ভিড়ের চাপে কয়েকজনের শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। ঠেলাঠেলিতে অনেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এমনকী পড়ে গিয়ে মাথার উপর দিয়ে পা দিয়ে মাড়িয়ে যাওয়ার কারণে তিন থেকে চারজনের গুরুতর আঘাত এবং সেখান থেকে মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ মর্গে ১৭ জনের দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এক শিশুর ময়নাতদন্ত হয়েছে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে। তারও শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এবং শ্বাসরোধের কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওই শিশুর।
বাকি একটি দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে। আট জন বাদ দিয়ে অনেকের মাথায় চোট লেগে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণেও মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ‘ট্রমাটিক এসফিক্সিয়া’র কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে। কারণ অতিরিক্ত চাপের কারণে শ্বাসরোধ হয়। তার জেরে দেহে রক্তসঞ্চালন বন্ধ হয়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের জেরে মৃত্যু হয়।
এছাড়াও, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে কারও কিডনি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার শরীরের একাধিক হাড় ভেঙেছে। যার কারণেও মৃত্যু ঘটেছে একাধিক ব্যক্তি ও শিশুর।
লালবাজার পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ তাদের পরিবার চিহ্নিত করে। এরপর পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
