মাগুরায় জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪ হাজার পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ৬ লাখ টাকা, একটি প্রাইভেট কার, একটি মোটরসাইকেল, একটি ওয়াকিটকি সেট ও একটি স্টিলের লকার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় মাদক কারবারে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে মাগুরা সদর থানার কুকনা এশিয়া মহিলা কলেজপাড়ায় অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। ডিবির অফিসার ইনচার্জ মো. আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মেহেদী হাসানের অংশগ্রহণে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাপড়ী গ্রামের দীপ্ত কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী সম্পা দাস (৩২) ও তাঁর মা পূর্ণিমা রানী বিশ্বাসকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় সম্পা দাসের কোলে তিন মাস বয়সী একটি শিশু ছিল। এদিকে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দীপ্ত কুমার বিশ্বাস (৩২) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে পলাতক দীপ্ত কুমার বিশ্বাসের ভাড়া বাসা তল্লাশি করা হয়। এ সময় একটি স্টিলের লকার থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ইয়াবাগুলো ২০টি পলিজিপারে রাখা ছিল। একই লকার থেকে মাদক বিক্রির নগদ ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির সামনে থেকে মাদক পরিবহনে ব্যবহারের অভিযোগে একটি পিস্তি রঙের প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-১২৮৯৯৪), নম্বরপ্লেটবিহীন একটি অ্যাপাচি আরটিআর ৩১০ মোটরসাইকেল এবং ‘BAOFENG’ লেখা একটি ওয়াকিটকি সেট জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি দলের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ও জুয়াসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমএস/
