বসেনি মঙ্গলঘট, জ্বলেনি মঙ্গলদীপ, হয়নি দেবীর বোধন! প্রিয় ‘দাদু’র অসুস্থতায় বিষণ্ণ দামোদরপাড়ার আশ্রমের শিশুরা। বিজয়া দশমীর রেশ কাটিয়ে একাদশীতে যখন চারদিকে উৎসবের আবহ, তখন পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী- ১ ব্লকের দামোদরপাড়া অনাথ ও বৃদ্ধাশ্রমে শুধুই মনখারাপ। এমনকি, দেবীর বোধনও হয়নি।
কারণ, আশ্রমের শিশুদের প্রিয় ‘দাদু’ অসুস্থ। তাঁর অসুস্থতার খবরেই এ বছর দুর্গাপুজোর আনন্দ থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছে আশ্রমের ছোটরা। এই ‘দাদু’ আর কেউ নন, রাজ্যের প্রাক্তন প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। আশ্রমের অনাথ শিশুদের কাছে তিনি শুধু প্রাক্তন মন্ত্রী-ই নন, বরং ভালবাসা, ভরসা এবং নির্ভরতার এক আপনজন। তাঁর উদ্যোগ এবং পৃষ্ঠপোষকতায় গত কয়েক বছর ধরে আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘটা করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হত।
আগে পুজোর দিনগুলোয় স্বপন নিজে উপস্থিত থেকে শিশুদের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠতেন। আলোয় সেজে উঠত আশ্রম চত্বর। শিশুদের লেখা কবিতা ও গল্প নিয়ে প্রকাশিত হতো নিজস্ব পত্রিকাও। সব মিলিয়ে পুজোর দিনগুলি হয়ে উঠত আবাসিকদের কাছে বছরের অন্যতম সেরা সময়। কিন্তু এ বছর ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ‘প্রিয়’ দাদু আগের মতো তাদের পাশে নেই। তাতেই মন ভেঙেছে আশ্রমের শিশুদের। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দাদু সুস্থ হয়ে না আসা পর্যন্ত পুজোয় আনন্দ করবে না। শুধু পুজোর আয়োজনই নয়, ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আনন্দ থেকেও নিজেদের দূরে রেখেছে ছোটরা।
শিশুদের এমন আবেগ ও ভালবাসাকে সম্মান জানিয়ে আশ্রম কর্তৃপক্ষও এ বছর আর দুর্গাপুজো আয়োজন করেননি। তাই পুজোয় সরকারি অনুদান পাওয়া সত্ত্বেও তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সমাজমাধ্যমে সকলকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু দামোদরপাড়া আশ্রমের শিশুদের কাছে এ বারের বিজয়াও অপেক্ষার। তাদের একটাই প্রার্থনা, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন দাদু। আবার ফিরে আসুন আশ্রমের আঙিনায়।
