তালায় স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হয়েও নিজ বাসভবনে পরিবার-পরিজন নিয়ে এক প্রকার ‘গৃহবন্দি’ জীবনযাপন করছেন এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও মিলছে না মাত্র তিন-চার ফুট যাতায়াতের বিকল্প পথ। উপজেলা প্রশাসন চত্বরের চারপাশ ঘিরে নির্মিত উঁচু সীমানা প্রাচীরের কারণে গত কয়েক মাস ধরে এ চরম মানবিক ট্র্যাজেডি ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে অসহায় পরিবারটি। সরেজমিনে দেখা যায়, আটারই গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সরদার সাইফুল ইসলাম তার চাকরিজীবনের সঞ্চিত সম্বল দিয়ে প্রশাসন চত্বর-সংলগ্ন নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবার ওই পথ দিয়েই যাতায়াত করে আসছিলেন। সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে পুরো চত্বরে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। এতেই ঘটে চরম বিপত্তি। প্রাচীরটি নির্মাণের ফলে সাইফুলের বাড়িতে স্বাভাবিক যাতায়াতের পথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প রাস্তা না থাকায় পরিবারটি নিজ ভূমিতেই যেন ‘গৃহবন্দি’ ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ চরম দুর্ভোগ ও মানবিক সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং যাতায়াতের পথ সুগম করতে ভুক্তভোগী সাইফুল গত ২৪ এপ্রিল ইউএনও বরাবর মাত্র ৭-৮ ফুটের একটি ‘পকেট গেট’ বরাদ্দের জন্য লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ্ মানবিক বিষয়টি অনুধাবন করে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সুপারিশ প্রদান করেন। কিন্তুস্থানীয় প্রশাসন থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ২২ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর পুনরায় লিখিত আবেদন করা হয়। পরিস্থিতির সুরাহা না মেলায় বাধ্য হয়ে হাইকোর্টে পিটিশন দায়ের করেন সাইফুল। রিট আবেদনের শুনানি শেষে দ্বৈত বেঞ্চ স্থানীয় সরকার সচিব, জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহের রুল জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত আবেদনকারীর পূর্বের লিখিত আবেদনসমূহ ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির আইনি নির্দেশ দেন। ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
