যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তাসহ সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিদেশের মাটিতে হয়রানির ঘটনা ‘স্পষ্ট সহিংসতা’ বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ইতালিতে এক অভিনেত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার যেমন ব্যবস্থা নিয়েছিল এবারও নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার
উপদেষ্টা বলেন, ড. ইউনূস এখন আমেরিকাতে আছেন, সেখানে এয়ারপোর্টে তাকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে। তার অপরাধ হচ্ছে, তিনি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেন নিয়েছেন। ড. ইউনূসের সরকারকে নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা যে কারও থাকতে পারে, আমরা দেশে বসেও অনেকে সেই সমালোচনা করেছি। আমরা যদি ভুল না করি আমাদের প্রাথমিক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণ করার চেষ্টা হয়েছে আমেরিকায়। সুতরাং যে দলটা এ ধরনের কাজ করে বেড়ায় এবং দেশের ভেতরে সন্ত্রাস এবং নানারকম সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা প্রকাশ্যে তাদের দলের প্রধান করে থাকেন, সেখানে আসলে রিকনসিলিয়েশনের আলাপের ব্যাপারে সরকারের যা বোঝার তা বোঝা হয়ে যায়।
নিউইয়র্কসহ বিদেশের মাটিতে ঘটা ঘটনাগুলোকে স্পষ্ট সহিংসতা আখ্যা দিয়ে এর জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘ওই দেশগুলো বলে হয়তো তারা আরও বেশি সহিংস হয়ে উঠতে পারছে না, কিন্তু এই প্রবণতা আছে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, একজন অভিনেত্রী (আজমেরী হক বাঁধন) যিনি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সলিডারিটি দেখিয়েছেন, সেই কারণে তিনিও হেনস্তার মুখোমুখি হয়েছেন। এগুলো কোনো প্রেসার গ্রুপ ট্রুপ কিছু না, এগুলো আওয়ামী সন্ত্রাস। আমরা এভাবেই ইন্টারপ্রেট করতে চাই এবং সেটা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে, ওই অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে কিন্তু সেটার প্রসেস শুরু হয়েছে আমরা ভবিষ্যতেও করব।’
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমা না চেয়ে আওয়ামী লীগ ক্রমাগত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিদেশে মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা ও দেশে অস্থিরতাকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখায় তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা সমঝোতার সুযোগ নেই বলেও মত দেন তথ্য উপদেষ্টা। এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের দিক থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। ওনারা ডিসাইড করেছেন ওনারা বিচার করবেন এবং আমরাও ডিসাইড করেছি কারণ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হতে হবে। কোনো সম্ভাবনা আমি ব্যক্তিগতভাবে আসলে একেবারেই দেখি না। আবারও বলছি, ক্ষমা চাওয়া অনুতাপ দূরে থাকুক তারা হুমকি দিচ্ছে, তারা বাংলাদেশে সহিংসতা নানানভাবে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে সরকারে কোনো ধরনের চাপে আছে কিনা প্রশ্নেরও জবাব দেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আমরাই চাইছি উনি আসুক। সেটার জন্য আমরা কীভাবে ভবিষ্যতে কী কী করব, সেই প্রস্তুতি সরকারের নিশ্চয়ই আছে। আমরা তো ভারতকে বলছি, ওনাকে আমাদের হাতে হস্তান্তর করুন।
যখনই জুলাইয়ের সঙ্গে বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ হেনস্তার শিকার হয় তখন বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম এমনভাবে নিউজ করে, মনে হয় যেন এটা তার প্রাপ্যই ছিল। এগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা হিসেবে নজরদারি করছেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক।
বিদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আইনি তৎপরতার প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, আমরা এই কথা বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বলতে চাই— তারা যদি এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেন এটা আনচ্যালেঞ্জড যাবে না।
পুলিশ বাহিনীর মনোবল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, একদম কোনো সংকট নেই, সেটা বলতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি এই সরকার গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটের সরকার। তার যে কোনো আইনি আদেশ প্রতিপালনে পুলিশ বাহিনী তার আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ফিরে পাবে। এটার জন্য সময় আরেকটু হয়তো লাগবে। সে কারণেই আমি বলছি, পুলিশ বাহিনী একেবারে সংকটহীন অবস্থায় আছে ব্যাপারটা সেরকম না।
