বালিগাঁও ব্রিজসংলগ্ন সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণ, দখল ও বিক্রির অভিযোগ
ডেস্ক রিপোর্ট
- আপডেট: ১১:৪৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১
বালিগাঁও ব্রিজসংলগ্ন সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণ, দখল ও বিক্রির অভিযোগ
টঙ্গীবাড়ীতে সরকারি জমির সীমানা নিয়ে প্রশ্ন, বিআইডব্লিউটিএর জায়গা নিয়েও বিতর্ক
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | প্রথম পর্ব
আল আমিন :
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও বাজার ব্রিজসংলগ্ন সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণ, জমি দখল এবং অন্যের কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আরিফ গংয়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ব্রিজের সংলগ্ন সরকারি জায়গা নিজেদের দখলে নিয়ে সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই জমির কিছু অংশ একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালিগাঁও ব্রিজসংলগ্ন সরকারি জায়গার পাশাপাশি ভবনের পাশেই থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জায়গা নিয়েও দখল ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সম্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জমির মালিকানা, সীমানা ও ব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নথিপত্র, জমির জরিপ ও দলিল যাচাই করা প্রয়োজন।
‘লিজ নেওয়া জমি’—দাবির পক্ষে কাগজপত্র কোথায়?
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, জমিটি তিনি লিজ নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর পূর্বপুরুষেরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গা লিজ নিয়ে ভোগদখল করে আসছেন এবং সেই সূত্রেই সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে যোগাযোগের সময় তিনি তাঁর দাবির সমর্থনে কোনো লিজের চুক্তিপত্র, সরকারি অনুমোদন কিংবা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফলে জমিটি প্রকৃতপক্ষে লিজ দেওয়া হয়েছিল কি না, লিজের মেয়াদ ও শর্ত কী ছিল এবং সেখানে ভবন নির্মাণের অনুমতি রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, কোনো জমি দীর্ঘদিন ভোগদখলে থাকলেই তার মালিকানা বা বৈধ লিজের অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না। এ ক্ষেত্রে সরকারি রেকর্ড, বৈধ লিজের নথি, জমির সীমানা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ
এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নেওয়ার উদ্যোগের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগটির বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে সংবাদ প্রকাশে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ থাকুক বা না থাকুক, জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও ভবন নির্মাণের বৈধতা নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত সরকারি নথিপত্র, ভূমি জরিপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী?
বালিগাঁও বাজার ব্রিজসংলগ্ন জায়গাটি সরকারি খাসজমি, সড়ক বা সেতুর অধিগ্রহণ করা জমি, নাকি অন্য কোনো সংস্থার সম্পত্তি—তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের রেকর্ড, অধিগ্রহণের নথি ও মৌজা ম্যাপ পরীক্ষা করা জরুরি। একইভাবে, পাশের জায়গাটি বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কি না এবং সেখানে কোনো বৈধ লিজ বা বরাদ্দ রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং বেআইনি দখল বা অনুমোদনহীন স্থাপনার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের কাছে বৈধ লিজ বা বরাদ্দের কাগজপত্র থাকলে সেগুলোও যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা সম্ভব।
প্রথম পর্বের শেষ প্রশ্ন
বালিগাঁও ব্রিজসংলগ্ন জমির প্রকৃত মালিক কে? সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণের অনুমতি ছিল কি না? বিআইডব্লিউটিএর জায়গা দখল ও একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির অভিযোগের ভিত্তি কী? আর জমিটি লিজ নেওয়া হয়ে থাকলে সেই লিজের সরকারি নথি কোথায়?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, উপজেলা প্রশাসন, সড়ক ও সেতুসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বিআইডব্লিউটিএর বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
চলবে—অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে বালিগাঁও ব্রিজসংলগ্ন জমির রেকর্ড, লিজের বৈধতা, জমির সীমানা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের চেষ্টা থাকবে।

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

