আড়াই হাজার বছরের সভ্যতার স্মারক পুণ্ড্রনগরী বগুড়াকে দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, গত ২০ বছর ধরে বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস হওয়ায় উন্নয়ন দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগবে; তবে বগুড়ার উন্নয়নে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মমইন কনভেনশন সেন্টারে দেশের প্রথম সারির পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর আয়োজনে ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া কৃষিতে উদ্বৃত্ত একটি জেলা। এখানে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। অথচ সম্ভাবনাময় এই জেলাকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বগুড়াকে শিল্প, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগরায়ণের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।
বগুড়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলার ১৩টি উপজেলার উন্নয়নে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌরসভাগুলোর জন্য দুই হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় ডাকবাংলো নির্মাণ, বিসিক শিল্প পার্কের কাজ দ্রুত শুরু করা, মহাসড়কগুলো চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করা এবং যানজট নিরসনে প্রাথমিকভাবে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যমুনার ভাঙন রোধ, পানি সংরক্ষণে ড্যাম্প স্টেশন নির্মাণ, প্রতিটি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ এবং বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় উন্নয়ন বরাদ্দ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো দেশকে সমান চোখে দেখেন। রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং গোপালগঞ্জ জেলার উন্নয়নে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নয়; দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য।
দলের ভেতরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বট-গুপ্ত শুধু আওয়ামী লীগ বা জামায়াতে নেই, আমাদের দলেও আছে। হিংসা ও অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ নেই। আসুন, ভালো কাজকে উৎসাহিত করি। বগুড়ার স্বার্থে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হই। এ সময় শহরের যানজট ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া দীর্ঘদিন বঞ্চিত থেকেছে। এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বগুড়ার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার সত্য প্রকাশে বিশ্বাস করে এবং সাংবাদিকেরা যাতে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সম্পাদক লোটন একরামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ ইসলাম আলমগীর পাভেল, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, বগুড়া সিটি প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বিআরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কুদরত-ই-জাহান, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম, বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহন আকন্দ এবং নাজ গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী শোকরানা প্রমুখ।
