রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ উদ্যোগে সমর্থন জানালেও রাশিয়া এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে কীভাবে বা কোন শর্তে এ সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
প্রথমে ট্রাম্পের ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। পরে তিনি বলেন, রাশিয়া রাজি হলে ইউক্রেনও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়ার হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ। ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালাতে প্রস্তুত। মস্কোও একই অবস্থান নেবে বলে তারা আশা করছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তারা।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ট্রাম্পের আহ্বানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে শুরু হওয়া উচিত। ফ্রান্স, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর কিয়েভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার ড্রোন হামলা হয় বলে জানান জেলেনস্কি। এতে রাজধানীর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়।
জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরই এসব হামলা হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেন কয়েক মাস ধরে পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের সামরিক অভিযানকে সহায়তা করে এমন স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। অন্যদিকে জেলেনস্কির মতে, রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ চালানোর জন্য মস্কোর অর্থের জোগান কমিয়ে দেওয়া। এসব হামলায় দুই দেশেরই জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একটি চুক্তি ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় রুশ জ্বালানি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়বে।
সূত্র: বিবিসি
