ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ এবং আকাশসীমায় সৃষ্ট সংকটের কারণে চরম শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গতকাল সোমবার পর্যন্ত গত তিন দিনে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে বিমানবন্দরে
আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন ৪ হাজার ৮৫১ জন যাত্রী, যাদের অধিকাংশই সৌদিগামী রেমিট্যান্সযোদ্ধা।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট শাখা ও জনসংযোগ বিভাগ জানায়, রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় নতুন করে ১৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর আগে সকাল পর্যন্ত বাতিল হয়েছিল ১০টি ফ্লাইট। বাতিল হওয়া মোট ২৮টি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ১৬টি (ট্রানজিট), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪টি, সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ৩টি, রিয়াদ এয়ারের ৩টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি ফ্লাইট।
২১ অক্টোবর পর্যন্ত ইউএস-বাংলার সব ফ্লাইট বাতিল : নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের তাদের সমস্ত ফ্লাইট (বিএস-৩৮১ ও বিএস-৩৮২) সাময়িকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি যাত্রীদের আপাতত বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে টিকিটের নতুন সময়সূচির জন্য সেলস অফিস বা ট্রাভেল এজেন্সিতে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে।
বিমানের রিয়াদ ও দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত : রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম বন্ধের মেয়াদ ১৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টা পর্যন্ত বর্ধিত করায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-রিয়াদগামী ‘বিজি-৫৩৯’ ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ভূত নিরাপত্তাজনিত কারণে সোমবার বিকাল ৩টা ১০ মিনিটের ঢাকা-দাম্মামগামী ‘বিজি-৩৪৯’ ফ্লাইটটিও স্থগিত করা হয়েছে। উভয় ফ্লাইটের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও হালনাগাদ তথ্য আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে রবিবার বিমানের দাম্মামগামী ফ্লাইট বিজি-৩৪৯ উড্ডয়নের পর বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে কাতারের দোহায় অবতরণ করতে বাধ্য হয়। পরে দাম্মাম বিমানবন্দর খুললে ফ্লাইটটি সেখানে পৌঁছায়।
বিমানবন্দরে যাত্রীদের চোখেমুখে অন্ধকার : এদিকে ফ্লাইট বাতিলের কোনো পূর্বতথ্য না পাওয়ায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিমানবন্দরে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী। লক্ষ্মীপুরের মঈনুদ্দিন কিংবা যশোরের সবুজের মতো অনেক যাত্রীই জানান, নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারলে তাদের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এবং চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন তারা।
হঠাৎ করে ঢাকায় থাকার কোনো ব্যবস্থা না থাকা এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অনেক যাত্রী টার্মিনালের বাইরে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে ঢাকা-জেদ্দা বা ঢাকা-মদিনা রুটে টিকিট কাটার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত বিমান ভাড়ার কারণে তা নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি যুদ্ধকালীন বৈশ্বিক নিরাপত্তাজনিত সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে আসার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইন্স থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার জন্য যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
