প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে কৌটাজাতীয় বস্তু দেখতে পান এক যুবক। সেটি কুড়িয়ে নিয়ে এসে খুলতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নুর মোহাম্মদের (৩০) বাঁহাতের দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাকি তিনটি আঙুল।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুরের রাজাবাড়ি ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর-কাপাসিয়া সড়কের পাশে সাটিয়াবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত নুর মোহাম্মদ ওই এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে। পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তাঁকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি ) সদস্যরা। এসআরবি-১–এর গাজীপুর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার দেবজীত পাল বলেন, ‘বিস্ফোরণ হওয়া বস্তুটি পরিত্যক্ত সাউন্ড গ্রেনেড বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান।’
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নুর মোহাম্মদ সড়কের পাশে একটি নির্জন জায়গায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যান। সেখানে কিছুটা কৌটার মতো দেখতে একটি বস্তু তিনি কৌতূহলবশত হাতে নেন। পরে সেটি নিয়ে পাশের মো. সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তির মনোহারি দোকানের সামনের বেঞ্চে বসেন।
কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুটি নুর মোহাম্মদ সেখানে থাকা মো. শফিকুল ইসলামসহ আরও তিনজনকে দেখান। একপর্যায়ে তিনি বস্তুটির এক প্রান্তে থাকা ধাতব আংটা খুলে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর বাঁহাত।
প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্তুটি কুড়িয়ে পাওয়ার পর সেটি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখছিলেন নুর মোহাম্মদ। খুলতে চাইলে তিনি তাঁকে বাধা দেন। নুর বাধা না শুনে সেটি খুলতে শুরু করলে শফিকুল সেখান থেকে চলে যেতে থাকেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে।
রাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. মনিরা পারভীন বলেন, তিনি খবর পেয়ে এসে দেখেন, দোকানের সামনে রক্ত পড়ে আছে। অনেক মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। বিস্ফোরক বস্তুটি সেখানে কীভাবে এল, তা এলাকার কেউ ধারণা করতে পারছেন না।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
