‘ম্যাক্রোর অক্ষমতাই ফরাসি দাঙ্গাকে উসকে দিয়েছে’
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ফ্রান্সে চলমান সহিংস অস্থিরতার জন্য প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং তার সরকারের নীতিকে দায়ী করেছেন দেশটির বিরোধী নেতারা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার উচ্চব্যয় এবং পাবলিক সার্ভিসের মান অবনতির প্রতিবাদে প্যারিসসহ অন্যান্য শহরে শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এই বিক্ষোভ খুব দ্রুত দাঙ্গা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটে রূপ নেয়। এ ঘটনায় হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শত শত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন
২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের জরিপে এগিয়ে থাকা ডানপন্থি নেত্রী মারিন ল্য পেন ম্যাক্রোঁকে বিশ্বাসযোগ্যতা বা কর্তৃত্বহীন এবং বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এই প্রশাসনকে নিঃশেষ হয়ে আসা একটি সরকার বলে মন্তব্য করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা আস্থা ও কর্তৃপক্ষের এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যা আমাদের গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলছে। এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। আমাদের দেশ আজ সহিংসতা ও সরকারের ক্ষমতাহীনতার মাঝে পিষ্ট হয়ে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছে।’
উল্লেখযোগ্য যে, গত জুলাই মাসে প্যারিসের একটি আপিল আদালত ইইউ তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে ল্য পেনের দণ্ড বজায় রাখলেও তার সাজা কিছুটা সংশোধন করে। এর ফলে ডানপন্থি 'ন্যাশনাল র্যালি' দলের এই প্রবীণ রাজনীতিকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। যদিও ল্য পেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন যে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ন্যাশনাল র্যালির সভাপতি জর্ডান বারদেলা বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখানো শিথিলতা, ক্ষমতার অবক্ষয় এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর নৈতিক ও বস্তুগত দুর্বলতার মূল্য দিচ্ছি। আমি আশা করি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন এবং পদত্যাগ করবেন।’
অন্যদিকে, বামপন্থি দল 'লা ফ্রঁস আঁসমিজ'-এর নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশঁ ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যমকে বলেন, ‘গত দশ বছরের ভয়াবহ শাসনের ফসল হলো এই বিক্ষোভ, যে সময়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্র ও সরকারি পরিষেবাগুলোর স্বাভাবিক কাজকর্ম ধ্বংস করে দিয়েছেন।’
তিনি বিক্ষোভ দমনে অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ত নুনেজ এবং পুলিশ প্রধানদের সম্পূর্ণ অক্ষমতার অভিযোগ তোলেন।
পাশাপাশি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্রের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এসব অস্ত্রের কারণে বহু মানুষ পঙ্গু হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, এলএফআই পূর্বেও সহিংসতা উসকে দেওয়ার সরকারি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।’
রবিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ম্যাক্রোঁ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী এবং দাঙ্গাবাজদের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ‘জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো অবশ্যই শোনা হবে, তবে যারা সহিংসতার জন্য দায়ী তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের শিথিলতা দেখাব না। কথা শোনা বা আলোচনার অর্থ দুর্বলতা প্রকাশ করা কিংবা ছাড় দেওয়া নয়।’
শিক্ষকদের সংকট ও পড়াশোনার নিম্ন পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধান করার প্রতিশ্রুতিও দেন ম্যাক্রোঁ।
তিনি বলেন, ‘কোনো পূর্বসংস্কার বা সমস্যাকে হালকাভাবে না দেখে তাদের দাবিগুলো শুনতে হবে।’
অক্টোবরের জনমত জরিপ অনুযায়ী, ম্যাক্রোঁর জনপ্রিয়তার হার কমে মাত্র ১৫ থেকে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ২০২৭ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের প্রথম ধাপের জরিপে ল্য পেন প্রায় ৩২ শতাংশ থেকে ৩৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে সবার শীর্ষে রয়েছেন। সূত্র: আরটি
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে অন্তত চারজন নিহত এবং বহু লোক গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই ঘটনাকে শান্তিকালীন সময়ে কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি বলে বর্ণনা করেছেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে নিশ্চিত করছি যে ফরেস্ট সার্ভিস বা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাদের স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া আরও বহু লোক গুরুতর আহত হয়েছেন।’
আরও পড়ুন
আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছেন, মোট ৩৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রবিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রোগীদের আলবার্টাজুড়ে চারটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং সকলের খোঁজ মিলছে।
সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল এল ডব্লিউ রুটল্যান্ড বলেন, ‘সামরিক ঘাঁটির কর্মকর্তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে আগুন লাগার বিষয়ে অবগত ছিলেন। তবে অস্বাভাবিক শক্তিশালী বাতাস শুরু হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির একটি প্রশাসনিক এলাকার দিকে দিক পরিবর্তন করে।’
তিনি বলেন, ‘বাতাস যখন মোড় নেয়, তখন আগুন এক কিলোমিটার দূরে ছিল। মাত্র ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আগুনের এক কিলোমিটার ছড়িয়ে পড়া একেবারেই অস্বাভাবিক।’
শনিবার বিকেলে এডমন্টন থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রচণ্ড বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত প্রশিক্ষণ এলাকার সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়।
কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি এই ঘটনায় হতাহতের কথা নিশ্চিত করলেও পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেননি।
কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে প্রশিক্ষণ এলাকায় প্রথম আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম কমাতে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আক্রমণ বন্ধ করতে চাপ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছেন তেল শোধনাগারে হামলা না চালানোর বিনিময়ে ইউক্রেনকে আরও বেশি প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিতে হবে।
আরও পড়ুন
তার অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-
স্টারলিংক ইন্টারনেটের গতি কমানো: ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন ও যুদ্ধ ব্যবস্থাপনার জন্য জরুরি স্টারলিংক সংযোগের গতি হোয়াইট হাউসের নির্দেশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব: ইউক্রেন অর্থ পরিশোধ করা সত্ত্বেও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ আটকে রাখা হয়েছে, যার ফলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক হামলা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দুদেশের এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সূত্র: এনডিটিভি
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা, গ্রেপ্তার ১৮০০
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ফ্রান্সে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ দোকান ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফরাসি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ রাস্তায় নামে। এ সময় অন্তত ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দেশটির খুচরা ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য ফেডারেশনের প্রধান জানিয়েছেন, বিক্ষোভের সময় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর অনেকগুলোতে লুটপাট চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ মিছিলের আশপাশে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দল ও কয়েকটি শহরের মেয়রদের সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ‘ফ্রান্স জ্বলছে’। অভিবাসনের কারণে দেশটি ‘বিধ্বস্ত’ হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় এলিসি প্রাসাদে মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর। পরে রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশে আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেবেন তিনি বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের দপ্তর।
সূত্র: ফ্রান্স২৪
এএফ/
আরও পড়ুন
তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->শাসনব্যবস্থার জন্য এক ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখে, রাজধানী তিউনিসে হাজার হাজার তিউনিসীয় নাগরিক প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার এবং দেশের অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা ।
প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন 'ইউজিটিটি' এবং বিভিন্ন সুশীল সমাজের নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষোভটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন তিউনিসিয়া মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট, জনসেবার অবক্ষয়, বারবার পানি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে।
আরও পড়ুন
প্রেসিডেন্ট সাঈদ ২০২১ এবং ২০২২ সালে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে, বহু বিচারককে বরখাস্ত করে এবং অধ্যাদেশ জারি করে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে একক ক্ষমতা দখল করেন যে পদক্ষেপগুলোকে তার বিরোধীরা অভ্যুত্থান বলে আখ্যায়িত করেছেন।
অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলোর মতে, তিনি সুশীল সমাজ, সাংবাদিক এবং বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপর দমন-পীড়ন তীব্রতর করেছেন। তবে সাঈদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে তিনি কোনো স্বৈরাচারী নন। উল্টো তিনি অভিযোগ করেছেন, সামাজিক অসন্তোষ উসকে দিতে বিরোধীরা কৃত্রিম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে।
রাজনৈতিক ঐক্যের এক বিরল দৃশ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধী দলগুলো আইনজীবী, ডাক্তার, সাংবাদিক, বেকার যুবক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে হাবিব বোরগুইবা অ্যাভিনিউতে পদযাত্রা করেন। ২০১১ সালের যে বিপ্লব আরব বসন্ত উসকে দিয়েছিল, এই সড়কটি ছিল তার মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে গত কয়েক বছর ধরে বড় জমায়েত করা সম্ভব হচ্ছিল না। সে জায়গায় এই সাম্প্রতিক প্রতিবাদ সাঈদের ক্ষমতার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাবেশে ইউজিটিটি-এর প্রধান সালাহ এদ্দিন সালমি বলেন, ‘নীরবতা আর গ্রহণযোগ্য নয়। সব ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করে রাষ্ট্র গড়ে তোলা যায় না।’
বিক্ষোভ সামাল দিতে রাজধানীজুড়ে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘কোনো ভয় নেই, ক্ষমতার মালিক জনগণ!’ এবং ‘কারাগারগুলো কানায় কানায় পূর্ণ, দেশের মানুষ ক্ষুধার্থ!’ তারা ২০১১ সালের বিপ্লবের সেই আইকনিক স্লোগানটিও আবার মুখে ফিরিয়ে আনেন, ‘জনগণ এই স্বৈরাচারী শাসনের পতন চায়!’
তারা সাঈদের সমালোচকদের মুক্তি দাবি করেন এবং ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক অধিকারের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। কেউ কেউ বেকারত্ব এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যানার বহন করছিলেন।
স্ফ্যাক্স শহর থেকে আগত ইয়াসিন ঘারসেলি নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘অনেক হয়েছে, আর নয়! দেশ ধ্বংসের মুখে। আমরা একের পর এক বিদ্যুৎ ও পানি বিভ্রাট এবং সংকটে ভুগছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি স্ফ্যাক্স থেকে আমার স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়াতে এসেছি। আমি কখনোই হাল ছাড়ব না। এমনকি যদি আমাকে এই দেশের শেষ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরও হতে হয়।’ সূত্র: রয়টার্স
তামান্না রুপা/
