বেগম খালেদা জিয়া নারী আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের কোচ ও খেলোয়াড়রা স্বীকার করেছেন, প্রতিপক্ষের উচ্চতা ও গতির সামনে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।
সোমবার পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শুরুর বাঁশি থেকেই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খেলে ভারত। টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে লাল-সবুজ দলকে ৪৭-১৩ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে সফরকারীরা। প্রথমার্ধেই ২৪-৮ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে ফেলে ভারত। ফলে স্প্যানিশ কোচ আনা আলনসো ফ্রাগুয়ার শিষ্যদের ম্যাচে ফেরার আর কোনো সুযোগই ছিল না।
ভারতের জয়ে বড় ভূমিকা রেখে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ভাবনা, যিনি একাই করেছেন ১৩ গোল।
বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় এই ভেন্যু ভাবনার খুব চেনা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, 'এখানে এটি আমার তৃতীয়বার আসা। এর আগে স্থানীয় ক্লাবের হয়ে দুইবার খেলে গেছি। আবারও এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। এখানকার মানুষ খুব আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল, আর তাদের আতিথেয়তাও অসাধারণ।'
শিরোপানির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভাবনা আরও বলেন, 'আমাদের দলের বোঝাপড়া অনেক শক্ত। আমরা নিশ্চিত যে সোনা জিতেই দেশে ফিরতে পারব।'
প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে হারানোর পর এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ফাইনালের টিকিট পেয়ে গেল ভারত। গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচ নেপালের সঙ্গে।
তবে বড় ব্যবধানে এই হারের পরও বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি। মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে হারালেই ভারতের সঙ্গে ফাইনাল খেলা নিশ্চিত হবে স্বাগতিকদের।
ম্যাচ শেষে প্রস্তুতি ও খেলোয়াড় গড়ার প্রক্রিয়ায় দুই দেশের তফাত তুলে ধরেন বাংলাদেশ কোচ আনা আলনসো, 'আজকের ফলে দুটি ভিন্ন পর্যায়ের কাজের পার্থক্য ফুটে উঠেছে। ভারত গত এক বছর ধরে অনেক কঠোর পরিশ্রম করছে। বাংলাদেশও চেষ্টা করছে, তবে সেটা ভিন্ন মাত্রায়। স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক সামর্থ্য ও হ্যান্ডবল কৌশলে পার্থক্য ছিল, যা কোর্টে স্পষ্ট দেখা গেছে। আমাদের লক্ষ্য এখন আগামী মাস ও বছরগুলোতে ক্রমাগত উন্নতি করা, যেন ভারতের সঙ্গে সমান তালে লড়াই করা যায়।'
