ডেস্ক রিপোর্ট : আমদানির প্রতিটি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের গুণগত মান যাচাইয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।
তিনি বলেন, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে খাদ্যশস্য পরীক্ষা করতে হবে।
পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের খাদ্যশস্য গ্রহণ বা সরবরাহের সুযোগ না থাকে।
রোববার (১১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত গমবাহী জাহাজ এমভি স্প্রিং স্কাই পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আফরোজা খানম বলেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যশস্য আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, গুণগত মান পরীক্ষা ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা খাদ্যশস্যের মান যাচাইয়ে শৈথিল্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
আমদানিকৃত গমের গুণগত মান পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মান যাচাইয়ের প্রতিবেদন ও পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সততা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে আফরোজা খানম বলেন, এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের নির্ধারিত মান বজায় রেখে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। খাদ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক দায়িত্ব। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা, কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।
দেশের সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্যচাহিদার বিষয়টি উল্লেখ করে আফরোজা খানম বলেন, দেশের কোনো মানুষ যেন খাদ্যসংকটে না পড়েন এবং প্রত্যেকের কাছে যেন সময়মতো খাদ্য পৌঁছে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। খাদ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করতে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ওপর দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিদর্শনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
