রাজনৈতিক: বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প এবং সারাদেশে অনিয়মের মাধ্যমে সারের ডিলার নিয়োগের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি অভিযোগ করেছেন, দলীয় প্রভাব খাঁটিয়ে সংসদ সদস্য (এমপি) ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যরা সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন। এমনকি ছাত্রলীগ নেতা থেকে শুরু করে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এই ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে এসব বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সারোয়ার তুষার খোঁচা মেরে লেখেন, “সারেও ফ্যামিলি কার্ড! দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প!”
নির্দিষ্ট কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি লেখেন, “নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেন। তাঁর ছেলে মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদ নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সম্পাদক। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি হামলার ঘটনায় জড়িত থাকায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বিএনপি নেতার এই ছাত্রলীগ করা সন্তানকে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “একই উপজেলার (ডিমলা) বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রধানের ছেলে তানভির রাফসানকে ডিমলা সদর ইউনিয়নের সারের ডিলার বানানো হয়েছে, যিনি বর্তমানে কুয়েটের (খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) দ্বিতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী মাত্র।”
সারোয়ার তুষার তাঁর পোস্টে দাবি করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সারাদেশেই প্রভাবশালী এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের সন্তান, স্ত্রী, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী, ভাগ্নে এবং ছোট ভাইদের নামে-বেনামে সারের ডিলারশিপ বণ্টন করা হয়েছে।
কৃষি খাতের মতো সংবেদনশীল জায়গায় স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে তিনি আরও লেখেন, “ঘটনা আসলে কী? এসব অনিয়মের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাই পরিষ্কার বলে দিয়েছেন—‘সবই টাকার খেলা’।”
ফ্যামিলি কার্ড ও সার বণ্টনে সরকারের এমন ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
