সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস নিয়ে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর সৌদি আরবে। কিন্তু কে জানতো, সেই অচেনা দেশেই অপেক্ষা করছে তার বিশ্বাস বদলে দেওয়ার মতো বিস্ময়! আজানের সুর, মুসলমানদের জীবনাচার আর পবিত্র কোরআনের কিছু কথা ধীরে ধীরে তার মনে জাগিয়ে তুললো একের পর এক প্রশ্ন। যে সত্যকে তিনি অন্যের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, একসময় সেই সত্যের সন্ধানেই নিজেকে সমর্পণ করলেন সিস্টার ডেইজি। কিন্তু কী এমন ঘটেছিলো সৌদি আরবে, যা তার জীবনের গতিপথ চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছিলো?
ডেইজি বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ আইরিশ ক্যাথলিক পরিবারে। পরিবার ও চার্চের কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে ছোটবেলা থেকেই তার মনে ঈশ্বরের প্রতি গভীর ভক্তি তৈরি হয়। পরবর্তীতে মার্কিন দূতাবাসের শিক্ষিকা হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ হলে তিনি এটিকে ঈশ্বরের একটি বিশেষ আহ্বান হিসেবে গ্রহণ করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল সেখানে নিজের ধর্মীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।
কিন্তু সৌদি আরবের মাটিতে পা রাখতেই ডেইজির জীবনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন এলো। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, ওখানকার মুসলিমরা ঈসা আলাইহিস সাল্লাম আর মরিয়ম আলাইহিস সাল্লামকে ভীষণ শ্রদ্ধা করে এবং ভালোবাসে। শুধু তাই নয়, পবিত্র কোরআনে যিশুর জন্ম নিয়ে যে অলৌকিক কথা বলা আছে, তা সরাসরি তার মনের ভেতর গিয়ে নাড়া দিল। এই সুন্দর বিষয়টি তার মনকে এতটাই নাড়া দিল যে তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। মনের ভেতরের আসল সত্যটাকে জানার জন্য তার মন ভীষণ ব্যাকুল হয়ে উঠল।
এরপর কেটে গেল দীর্ঘ সাতটি বছর। এক বুক তৃষ্ণা নিয়ে চলল সত্যের খোঁজ। তিনি বাইবেল ও কোরআন গভীরভাবে পড়তে শুরু করলেন এবং ইসলামের একত্ববাদের মাঝে খুঁজে পেলেন জীবনের সব প্রশ্নের আসল উত্তর। অবশেষে সন্তানদের নিয়ে তিনি হাজির হলেন এক মসজিদে। জীবনে প্রথমবারের মতো আল্লাহর দরবারে সেজদায় অবনত হতেই তার চোখ বেয়ে অশ্রু নেমে আসে। আর হৃদয় ভরে যায় এক স্বর্গীয় প্রশান্তিতে। এভাবেই নিজেকে সঁপে দিয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, যা পরবর্তীতে তার মেয়েকেও অনুপ্রাণিত করেছিল।
সিস্টার ডেইজির জীবন আমাদের শেখায়, সত্যের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই। মন ও সততা নিয়ে সত্যের সন্ধান করলে সৃষ্টিকর্তা নিজেই সঠিক পথ দেখিয়ে দেন। আর সত্যকে গ্রহণ করার মানসিক সাহস মানুষকে প্রকৃত আত্মিক মুক্তি এনে দেয়।
