চাঁদপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা একটি সড়ক ১৫ দিনও টেকেনি; বরং সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কার্পেটিং ও ঢালাই উঠে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সড়কটির এমন বেহাল দশা পরিদর্শনে আসেন কুমিল্লার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।
১ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা কারাগার থেকে শাহতলী বাজার পর্যন্ত সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের বেহাল দশার অবসান ঘটিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবের উদ্দেশ্যে এই সংস্কারকাজ করা হলেও তা অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কে কার্পেটিংয়ে যে পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহারের কথা ছিল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তার চার ভাগের এক ভাগও ব্যবহার করেনি। এর ফলে ১৫ দিন না যেতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে এবং ঢালাই উঠে গেছে। কোথাও কোথাও হাতের সামান্য চাপেই ঢালাইয়ের অংশ গুঁড়ো হয়ে ঝরে পড়ছে।
সড়কের এমন নাজুক পরিস্থিতি দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও পথচারীরা। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক কাদের ও লিটন আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ দুর্ভোগের পর সড়কটি সংস্কার করা হলেও কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। নিম্নমানের এই কাজের কারণে সড়কটি আদৌ টিকবে কি না, তা নিয়ে তারা চরম সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি এত বড় বাজেটের কাজ হওয়া সত্ত্বেও কেন তদারকির অভাব ঘটল এবং কেনই বা কার্পেটিং এত দ্রুত নষ্ট হয়ে গেল।
অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আনেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। এরপরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের টনক নড়ে এবং পরিদর্শনের পর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকৌশলী রাহাত আমিন পাটোয়ারী জানান, সড়কটিতে কার্পেটিংয়ের অনুপাতে প্রয়োজনীয় বিটুমিন ব্যবহার না করার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কাজের এই চরম ত্রুটি ধরা পড়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। স্থানীয় জনসাধারণ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই নিম্নমানের কাজের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের এবং দ্রুত মানসম্মত সড়ক নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
