শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সামাজিক ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। একই সঙ্গে কারাবন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও ভূমিকা যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে হবে।
কারাবন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। এসব শিশুর বেড়ে ওঠা, মৌলিক চাহিদা পূরণ ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিচারাধীন মামলাগুলোর নিষ্পত্তির অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এসব মামলা দক্ষতার সঙ্গে নিষ্পত্তি করছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি গুরুত্বপূর্ণ। বিচারিক কার্যক্রমে গতি বজায় রাখার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন।
মামলাজট কমানো ও বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাঁর মতে, বিচারিক কার্যক্রমে গতি ফেরানো ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো জরুরি।
