থাইল্যান্ডে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়তে প্রাণপণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। ওই তরুণীকে নিতে আসা ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত বলেছেন, রাগের মাথায় তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এ জন্য ক্ষমাও চাইবেন না।
অভিযুক্তের নাম ওয়াতানিউ। তিনি ‘তি’ নামে পরিচিত। নিহত যুবকের নাম থানাবোদি।
থাই সংবাদমাধ্যম খাওসডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় (১৯ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে প্রা নাখন সি আয়ুথায়া প্রদেশের ওয়াং নই জেলার ফ্যাক্টরি ল্যান্ড শিল্পাঞ্চলের একটি কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। কাজ শেষে প্রেমিকাকে নিতে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন থানাবোদি। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছোড়েন ওয়াতানিউ। পরে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান তিনি।
পুলিশের কয়েকটি গোয়েন্দা দল যৌথ অভিযান চালিয়ে ওয়াতানিউকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে প্রা নাখন সি আয়ুথায়া প্রদেশের ফাই লিং এলাকার ওয়াত সাম প্লুয়েম মন্দিরের কাছে একটি আবাসিক কক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ওয়াং নই থানায় নেয়া হয়।
ওয়াং নই থানার ভারপ্রাপ্ত প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা পোল কর্নেল কানরাফি শ্রীপ্রাসের্ট জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াতানিউ বলেছেন, ‘এ’ ছদ্মনামের ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়তে তিনি এক বছর ধরে চেষ্টা করছিলেন। তরুণীকে দেখাশোনা ও আর্থিক সহায়তা দিতেন তিনি। এ কাজে তার কয়েক লাখ বাথ খরচ হয়েছে (১ লাখ থাই বাথ বাংলাদেশি সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি)। তবে তরুণী তার সঙ্গে সম্পর্কে রাজি হননি।
ওয়াতানিউ বলেন, নিহত যুবককে নিয়ে তিনি কিছু বলতে চান না এবং এ ঘটনার জন্য ক্ষমাও চাইবেন না। রাগ ও ক্ষোভের কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। তার দাবি, তিনি তরুণীকে ভালোবাসতেন এবং নিয়মিত তার সঙ্গে দেখা করতে কারখানার সামনে যেতেন।
তিনি আরও বলেন, নিহত যুবককে এর আগে কখনো সামনাসামনি দেখেননি। শুধু ফেসবুকে দেখেছিলেন। সেদিনই প্রথম সরাসরি দেখা হয়। তরুণীকে নিহত যুবকের কাছে যেতে দেখে তিনি রেগে যান এবং হামলা করেন। তার দাবি, তিনি খুব রেগে গিয়েছিলেন—একজন পুরুষের পক্ষে এমন পরিস্থিতি সহ্য করা কঠিন।
পিস্তলটি সঙ্গে রাখার বিষয়ে ওয়াতানিউ জানান, বছরের শুরুর দিকে তার ছোট ভাই নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি সব সময় পিস্তলটি সঙ্গে রাখতেন।
