সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যদের বসার স্থানসংকট নিরসনে ‘ভবন-২০২০’ প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। এ জন্য প্রস্তাবিত ভবনের নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করতে বলেছেন তিনি। পাশাপাশি অ্যাডভোকেট লাউঞ্জ সম্প্রসারণ এবং আদালত প্রাঙ্গণের রাস্তা, করিডোর ও ড্রেন সংস্কারের নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে সেগুলোর দ্রুত সমাধানে সহযোগিতা চান তারা।
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. রেজাউল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও ব্যারিস্টার অনিক আর হক এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। এ ছাড়া আইনজীবী সমিতির দুই সহসভাপতি, দুই সহসম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে আইনজীবীদের বসার জায়গার সংকটের বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, এ সংকট সমাধানে ২০২০ সালে ‘ভবন-২০২০’ নামে একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটির কাজও শুরু হয়েছিল। তবে পরে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রকল্পটির পটভূমি তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, তৎকালীন প্রধান বিচারপতির অনুমতিক্রমে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। সে সময় তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রকল্পটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হলে প্রধান বিচারপতি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এ জন্য ভবন নির্মাণের নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে সরবরাহ করতে বলেন তিনি।
এ ছাড়া আইনজীবীদের বসার সুবিধা বাড়াতে অ্যাডভোকেট লাউঞ্জ সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন সমিতির সম্পাদক। এ প্রস্তাবে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। সমিতি প্রাঙ্গণের রাস্তা, করিডোর ও ড্রেনের বেহাল অবস্থার বিষয়েও তাঁকে অবহিত করা হয়। এসব অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের নির্দেশনা দেন তিনি। আইনজীবীদের নামাজ আদায়ের জায়গার সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ভবন-২০২০’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আইনজীবীদের বসার স্থানসংকটসহ আরও অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আহ্বান
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধান বিচারপতি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আইনজীবীদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে এখন থেকেই পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সমিতির নেতাদের আশ্বস্ত করেন প্রধান বিচারপতি।
এদিকে দীর্ঘ অবকাশ শেষে রোববার (২৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরুর দিনে বিচারপতি ও আইনজীবীদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
আইন পেশার মর্যাদা ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন প্রধান বিচারপতি।
