কানাইঘাট (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : কানাইঘাটে সিএনজি চালক শাহাব উদ্দিন হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং- ১৩/২৬। গত মঙ্গলবার রাতে নিহতের বড় ভাই এনাম উদ্দিন বাদী হয়ে এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। আজ বুধবার দুপুরে মামলার এজহারভুক্ত পিতা ও ৪ পুত্র সহ ৫জন আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের মৃত মুদরিছ আলীর পুত্র সিএনজি চালক শাহাব উদ্দিনকে তাহার বাড়ির পাশে সামতলা নামক স্থানে কুপিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পরপরই তাৎক্ষণিক কানাইঘাট থানা পুলিশ দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় পৌছে প্রথমে একই গ্রামের মুজন আলী ও তার ছোট ছেলে কিবরিয়াকে আটক করে এবং সীমান্তবর্তী পাহাড়ী দুর্গম এলাকা হওয়ায়, মূল আসামীদের গ্রেফতারে এলাকার মানুষের সহযোগীতা চেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশের একাধিক টিম তাৎক্ষণিক সাড়াশি অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গ্রেফতারকৃতরা খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। যার কারনে শাহাব উদ্দিনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্দ হয়ে উঠেন এবং তারা এই হত্যাকারীদের পুলিশে ধরিয়ে দিতে সীমান্ত এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে উৎপেতে থাকেন। একপর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে একই এলাকার বাগরা নামক স্থানের একটি বাড়িতে মুজন আলীর পুত্র জাকারিয়া, ইয়াহিয়া ও শাহরিয়াকে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। পরে এলাকার লোকজন সেখান থেকে এই ৩জনকে ধরে নিয়ে নিহত শাহাব উদ্দিনের বড় ভাইয়ের বাড়িতে এনে আটক করে রাখে। সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয় কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, সিএনজি চালক শাহাব উদ্দিন হত্যাকান্ডে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার দিনই স্থানীয় লোকজনদের সহযোগীতায় মামলার এজহারভুক্ত ৫জন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে এবং মুজন আলী সহ তার ৪ পুত্রকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও এজহারভুক্ত বাকি আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে এবং অধিকতর তদন্তে আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
