চালক অচেতন, কাভার্ডভ্যান উধাও, ১৬ লাখ টাকার চিনিও নেই! চালক রটিয়েছিল, অচেতন করে ছিনতাইকারীরা নিয়ে গেছে চিনিভর্তি কাভার্ডভ্যান। কিন্তু শুরু থেকে চালককে নিয়ে খটকা ছিল চিনি সরবরাহকারী ব্যবসায়ীর। ঠিক তাই-ই বেরিয়ে এসেছে পুলিশের তদন্তে।
পুলিশ বলছে, ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ১৫ টন চিনিই বিক্রি করে দিয়েছেন চালক মো. আলমগীর! সেই চিনির খোঁজ মিলেছে বান্দরবানের আজিজনগরের বাজারে। অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে ১৩৪ বস্তা, এখনো হদিস নেই বাকি ১৬৬ বস্তার।
বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বান্দরবানের লামা থানাধীন আজিজনগর বাজারের বিভিন্ন মুদি দোকান থেকে ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বাজারের রাজিব স্টোরের মালিক মো. রাহাত উদ্দিন জুয়েল এসব চিনি কম দামে কিনে স্থানীয় মুদি দোকানগুলোতে বিক্রি করে দেন। অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
চিনি উদ্ধারের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব বলেন, ‘কাভার্ডভ্যানের চালক মো. আলমগীর পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়ে ১৫ টন (৩০০ বস্তা) চিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। এসব চিনি আজিজনগর বাজারের ব্যবসায়ী রাজিব স্টোরের মালিক মো. রাহাত উদ্দিন জুয়েল বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে কিনে স্থানীয় মুদি দোকানগুলোতে বিক্রি করে দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজিজনগর বাজারের কয়েকটি মুদি দোকান থেকে ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। দোকানিরা জানিয়েছেন, বুধবার সকালেই তাঁরা জুয়েলের কাছ থেকে এসব চিনি কিনেছেন। অভিযানের খবর পেয়ে জুয়েল পালিয়ে গেছেন।’
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পটিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্ণফুলীতে মিলেছে পরিত্যক্ত কাভার্ডভ্যান
এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ক্রসিং-সংলগ্ন চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কে নবনির্মিত কর্ণফুলী উপজেলা ভবনের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় কাভার্ডভ্যানটি পাওয়া যায়।
এর আগে বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে পটিয়ার বাদামতল এলাকা থেকে চালক আলমগীরকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কক্সবাজারগামী আরেক কাভার্ডভ্যানের চালক আবুল কালাম আজাদ তাঁকে উদ্ধার করেন।
আবুল কালাম জানান, বাদামতল এলাকার একটি চায়ের দোকানের পাশে আলমগীরকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে সামান্য হুঁশ ফিরলে তাঁকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আলমগীরের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করা হয়েছিল।
পটিয়া থানার এসআই মো. মাহবুব জানান, চালক আলমগীরের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টায় ভেল্লাপাড়া এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। তাকে পুলিশি হেফাজতে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মেঘনাঘাট থেকে যাচ্ছিল ১৫ টন চিনি
পরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাহিদ ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন জানান, মেঘনাঘাটের মেঘনা সুগার মিল থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর ২৮ টন চিনি পরিবহনের জন্য কাভার্ডভ্যানটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় ফুলকলি কারখানায় ১৩ টন চিনি খালাস করা হয়। এরপর বাকি ১৫ টন চিনি নিয়ে কাভার্ডভ্যানটি পটিয়ার নাইখাইন এলাকার কারখানায় যাচ্ছিল।
জাকির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চালক আলমগীরের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখন আলমগীর গাড়ির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় মইজ্যারটেক এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকার কথা জানান। গাড়ির ত্রুটি সারিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বুধবার সকাল ৯টার দিকে আরেক চালকের মাধ্যমে আলমগীরের হাসপাতালে ভর্তির খবর পান তিনি।
চালককে ঘিরে শুরু থেকেই সন্দেহ ছিল ব্যবসায়ীর
চিনি সরবরাহকারী খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামও চালকের আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাসিরাবাদ কারখানায় চিনি খালাসের পর রাতে চালকের সঙ্গে কথা বলার সময় আলমগীর গাড়ির বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে নানা অজুহাত দিচ্ছিলেন।
বুধবার রাতে আজিজনগর বাজারে গিয়ে পুলিশের সহায়তায় ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধারের কথাও জানান সিরাজুল ইসলাম।
The post চালকের ছকে উধাও ১৫ টন চিনি, উদ্ধার ১৩৪ বস্তা appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
