গাছপ্রেমীদের খুব পছন্দের একটি ফুল জবা। দেশি লাল জবা ছাড়াও গোলাপি, হলুদ কিংবা কমলা রঙের জবা ফুল হয়ে থাকে। তবে কমবেশি সবার বাড়িতে দেশি লাল জবা থাকেই। অনেকেই বাড়িতে জায়গার অভাবে বারান্দায় কিংবা ছাদে টবের মধ্যেও জবা গাছ বসান। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় দারুণ পরিচর্যা করার পরেও জবা ফুল গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। আসলে গাছের পাতা হলুদ হওয়ার পিছনে থাকতে পারে একাধিক কারণ। তবে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
উচ্চ ফসফরাসযুক্ত সার
গাছের দ্রুত বৃদ্ধি এবং প্রচুর পরিমাণে ফুল ফোটার জন্য অনেকেই উচ্চ ফসফরাসযুক্ত সার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এই সার অতিরিক্ত ব্যবহার করা হলে তা জবা গাছের ক্ষতি করে। উচ্চ ফসফরাসযুক্ত সার ব্যবহার করার ফলে জবা গাছে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ পৌঁছায় না। এরফলে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়। তাই যদি নিতান্তই এই সার ব্যবহার করতে হয় তাহলে প্রয়োজন বুঝে, উপযুক্ত পরিমাণে ব্যবহার করুন।
উপযুক্ত মাটি তৈরি করুন
জবা গাছের শিকড়ের জন্য প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। তাই এই গাছের জন্য ঝুরঝুরে মাটি ব্যবহার করুন। এছাড়া গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। গাছের গোড়ায় জল জমলে পাতা হলুদ হয়ে যেতে পারে। তাই মাটির অবস্থা বুঝে গাছের পরিচর্যা করুন।
মাটির পিএইচ স্তর
একটি আদর্শ জবা গাছের জন্য মাটির পিএইচ স্তর ৫.৮ থেকে ৬.৩-এর মধ্যে রাখতে হবে। অনেকসময় মাটির পিএইচ স্তর ৬.৩-এর উপরে চলে যায়। তখন গাছের পাতাও হলুদ হতে শুরু করে। তাই ভারসাম্য বজায় রাখতে সরিষার খোল ভেজানো জল গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যেতে পারে।
জবা ফুলের গাছের জন্য ঘরোয়া সার
পেঁয়াজের খোসা
ক্যালসিয়াম, পটাশ এবং আয়রন সমৃদ্ধ পেঁয়াজের খোসা ভেজানো জল এই তালিকায় সবার প্রথমে রয়েছে।
অবশিষ্ট চা পাতা
এছাড়া অবশিষ্ট চা পাতাও জৈব সার হিসেবে খুবই কার্যকর। তবে অবশ্যই চায়ের মধ্যে থাকা দুধ চিনি প্রথমে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
কলার খোসার গুঁড়ো
কলার খোসা ফেলে না দিয়ে তা সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে তা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যেতে পারে।
ইপসম লবণ
দুই থেকে তিন লিটার জলে এক বড় চামচ ইপসম লবণ গুলে নিয়ে গাছের গোড়ায় ঢেলে দিন। এটি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে এবং গাছের পাতা সবুজ করে তুলবে।
