আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দুরন্ত ইনিংস খেলে ভারতকে জয় এনে দেওয়ার পর সমালোচকদের নিয়ে মুখ খুললেন সঞ্জু স্যামসন। বাইরের আলোচনা বা সোশ্যাল মিডিয়ার মন্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের খেলার প্রক্রিয়ায় মনোযোগী থাকাই তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার।
ক্রাইস্টচার্চে বৃহস্পতিবার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ২২৫ রান তাড়া করতে নেমে ৩৩ বলে ৬৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন সঞ্জু। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার ও চারটি ছক্কা। ভারত ১৯.৪ ওভারে ম্যাচ জিতে নেয়। এই জয়ের সুবাদে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে সঞ্জু বলেন, “বাইরে কে কী বলছে, তা আমি জানি না। সোশ্যাল মিডিয়ায় কী আলোচনা হচ্ছে বা অন্যরা কী বলছেন, তা নিয়ে ভাবলে চলবে না। নিজের প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হবে। ভারতীয় দলের হয়ে খেলা সহজ নয়। চারপাশে অনেক আলোচনা হয়, অনেকের নিজস্ব মতামত থাকে। কিন্তু কাউকে ভুল প্রমাণ করার মানসিকতা নিয়ে আমি ক্রিকেট খেলি না।”
বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ভারতের আগ্রাসী ব্যাটিং কৌশল নিয়েও মুখ খোলেন সঞ্জু। তাঁর মতে, পাওয়ারপ্লেতে ভাল শুরু পেলে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই দলের পরিকল্পনা।
সঞ্জু বলেন, “ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের পরিকল্পনা আলাদা থাকে। পাওয়ারপ্লেতে ভাল শুরু পেলে আমরা সেই সুবিধা কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। এমনকি ১৭০ রান তাড়া করতে নামলেও শুরুটা ভাল হলে পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করি। গত কয়েক বছরে এই কাজটা আমরা ভালোভাবে করে আসছি।”
তবে প্রতিটি ম্যাচে এই পরিকল্পনা সফল হবে না, তা মেনে নিয়েও নিজেদের পদ্ধতির উপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। সঞ্জুর কথায়, কখনও পরিকল্পনা সফল হয়, কখনও হয় না। কিন্তু দলের স্বার্থকে সবার আগে রেখে নিজেদের উপর বিশ্বাস বজায় রাখাই আসল।
একাধিক সিরিজের কারণে টানা ক্রিকেট খেলতে হলেও তা নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই সঞ্জুর। বরং নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়াকে সৌভাগ্যের বিষয় বলে মনে করেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নিউজিল্যান্ড সফরে এসেছে ভারত।
সঞ্জু বলেন, “গত কয়েক মাসে আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছি। ম্যাচ না খেলার চেয়ে আমি খেলতেই বেশি পছন্দ করি।”
তিনি জানান, ইংল্যান্ড সিরিজের পর দলের বৈঠকে ব্যস্ত সূচির কথা মাথায় রেখে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী দলের প্রত্যেকেই শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির দিকে নজর দিয়েছেন।
চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলিতে ভারতের হয়ে অবদান রাখার অভিজ্ঞতাও নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সঞ্জু। তাঁর মতে, দেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতলে ক্রিকেটারের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
প্রথম ম্যাচে জয়ের পর এখন ভারতের লক্ষ্য দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও সাফল্য ধরে রাখা।
