সোনারগাঁ দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে ভারতীয় উপ-হাইকমিশনার
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
উপ-হাইকমিশনারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পানামা গ্রুপের চেয়ারম্যান অমল পোদ্দার। ছবি: খবরের কাগজ
-->নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় দুর্গাপূজা মণ্ডপে সপ্তমী পূজার অঞ্জলি অনুষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের উপ-হাইকমিশনার শ্রী পবন কুমার বাধে। পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের পঞ্চমীঘাট পোদ্দার বাড়ি শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চমীঘাট পোদ্দার বাড়ি পূজা মণ্ডপের অমল পোদ্দার (সিআইপি), সভাপতি প্রদীপ পোদ্দার, সেক্রেটারি বাদল পোদ্দার এবং পানামা গ্রুপের সিনিয়র জিএম আতিকুল ইসলামসহ অনেকে।
আরও পড়ুন
এ বিষয়ে পঞ্চমীঘাট পোদ্দার বাড়ি শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি প্রদীপ পোদ্দার বলেন, ‘হাইকমিশনার মহোদয় আমাদের মণ্ডপ পরিদর্শনে এসেছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। তবে এটি তার ব্যক্তিগত নাকি সরকারি কোনো সফর, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।’
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, ‘উপ-হাইকমিশনারের আগমনের পূর্বমুহূর্ত থেকেই পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পূজা মণ্ডপের আশপাশে অবস্থান নেন এবং তার নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’
আরও পড়ুন
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, ‘উপ-হাইকমিশনার মহোদয় তার পরিবারবর্গ নিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পূজা মণ্ডপটি পরিদর্শন করেছেন। এটি কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল না।
মো.ইমরান/এএফ
আরও পড়ুন
ইনানীর রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে কমিটি, ৫ কার্যদিবসে প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহানকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটিতে ফায়ার সার্ভিস, উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের প্রতিনিধিরা থাকবেন। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।
শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
আরও পড়ুন
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানযোগে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বলেন, অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তারেকুর রহমান/এসএন
আরও পড়ুন
দ্রুত 'উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা' বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা’ গঠনের দাবিতে সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের জনসাধারণ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কেরানীহাট চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ।
সমাবেশে বাজালিয়া, পুরানগড়, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, কেঁওচিয়া ও খাগরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ বলেন, উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। সরকার ইতোমধ্যে উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ৬টি ইউনিয়নের মানুষের প্রশাসনিক সেবা সহজ করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাব। উত্তর সাতকানিয়ার মানুষের এ অর্জন ধরে রাখতে আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে, মানুষের ওপর জুলুম করে কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে, তাহলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করলে, ব্যবসায়ী বা পরিবহন শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখালে কিংবা নিরীহ মানুষের ওপর প্রভাব খাটালে তাকে ধরে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখবেন। আমি রাজনীতি করি মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের ওপর জুলুম করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নয়।
আরও পড়ুন
সাতকানিয়ার ৬টি ইউনিয়ন ও দোহাজারী পৌরসভা নিয়ে 'দোহাজারী সাঙ্গু উপজেলা' বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসা দোহাজারীবাসীর উদ্দেশে সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ বলেন, দোহাজারী পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনো অপপ্রচার বা উসকানিতে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। বটবাহিনী ও গুপ্তবাহিনীর প্ররোচনা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। দোহাজারীর উন্নয়ন ও জনস্বার্থে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরিফুল ইসলাম/নাঈম
আরও পড়ুন
কক্সবাজারে আগুন লাগা সেই রিসোর্টের ম্যানেজার আটক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওসি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনকে থানায় আটক রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
আরও পড়ুন
শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাটোয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। কাঠের তৈরি তিনতলা ভবনটিতে দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন জানান, উদ্ধার অভিযান চলাকালে রিসোর্টের সব কক্ষ তল্লাশি করা সম্ভব হয়নি। ফলে হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিশ্চিত করতে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও রিসোর্টটির নিরাপত্তা-ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
তারেকুর রহমান/নাঈম
আরও পড়ুন
কক্সবাজারে আগুনে স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ স্বজন হারালেন চুয়াডাঙ্গায় বসবাসরত নুর আলম
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
এ ছবি এখন কেবল স্মৃতি। ছবি: সংগৃহীত
-->কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়েছেন চাকরির সুবাদে চুয়াডাঙ্গায় বসবাসরত নুর আলম। আনন্দময় সময় কাটাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে যাওয়া সেই ভ্রমণই তাঁর জীবনে নিয়ে এসেছে ভয়াবহ শোক।
নুর আলম বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফায়িজান আহম্মেদকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে টানা আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন। তিনি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গায় মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত।
মুঠোফোনে নুর আলম জানান, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্ত্রী ফারিহা কবির, সাত বছরের ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে তিনি কক্সবাজারে বেড়াতে যান। অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে তিনি চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন।
আরও পড়ুন
শনিবার তাঁদের কক্সবাজার থেকে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সকালে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁর স্ত্রী, সন্তান, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালক মারা যাওয়ার খবর পান তিনি। খবর পেয়েই তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
নুর আলম বলেন, “আজ তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। কীভাবে আগুন লাগল জানি না। আমার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।”
আরও পড়ুন
নুর আলমের একমাত্র ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ (৭) চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শনিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় নুর আলমের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় তলার কক্ষটি তালাবদ্ধ। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যে বাসায় আট বছর ধরে সংসার করছিলেন নুর আলম, তাঁদের অনুপস্থিতিতে সেই বাসা এখন নিস্তব্ধ।
বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ বলেন, “নুর আলম প্রায় আট বছর ধরে আমার বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন। তাঁরা খুবই ভালো মানুষ। ঘটনা শোনার পর তিনি ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।”
শনিবার কক্সবাজার থেকে পরিবারের সদস্যদের চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু তাঁদের ফেরার অপেক্ষার বদলে দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার ভাড়া বাসায় এখন ঝুলছে তালা। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নুর আলম।
মিজানুর রহমান/এসএন
