"জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বেকার তৈরির কারখানা বলা হলেও বাস্তবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতেও অবদান রাখছেন।"
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বেকার তৈরির কারখানা বলা হলেও বাস্তবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতেও অবদান রাখছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজ অডিটোরিয়ামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রামীণফোনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘কানেক্টিং এভরি ক্যাম্পাস’ সিম বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও প্রফেশনাল পর্যায়ের ৩৭০টি কলেজের অধ্যক্ষদের মধ্যে সিম বিতরণ করা হয়।
ভিসি বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তুলতে কারিকুলাম ও সিলেবাসে বড় ধরনের সংস্কার চলছে। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সিলেবাস ভ্যালিডেশন শেষে আপলোড করা হয়েছে। প্রায় ৫০টি বিষয়ে পাঁচ হাজারের মতো কোর্সের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০০টির সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পাস কোর্সের সিলেবাস ভ্যালিডেশন শেষে আপলোড করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, চাকরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং যেসব কলেজে আইসিটি ল্যাব নেই, সেখানে ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বিশ্বমঞ্চে সাফল্য অর্জন করছেন। সম্প্রতি এআই অলিম্পিয়াডে মফস্বলের শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণদের বৈশ্বিক মানের দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সমাধান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিতে গ্রামীণফোন প্রস্তুত।
‘কানেক্টিং এভরি ক্যাম্পাস’ উদ্যোগের মাধ্যমে অধিভুক্ত কলেজগুলোকে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ডিজিটাল শিক্ষাসহায়ক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান, সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. জুলহাস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন ও আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের উপপরিচালক মো. আকরাম হোসেন।
