জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাইসংক্রান্ত নির্দেশনা ঘিরে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গরু ভোজ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া শিক্ষার্থীরা কর্মসূচির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। এতে অংশ নিতে জনপ্রতি নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা।
১৫ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহসাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা গরু ভোজের নতুন তারিখের কথা জানিয়েছেন। এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রচারপত্রে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কর্মসূচি আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। প্রচারপত্রে নিবন্ধনের নির্দেশনাসহ একটি অনলাইন ফরমের সংযোগ দেওয়া হয়। জকসুর সহসাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা এবং জবি শাখা ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ তাঁদের নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে ওই পোস্ট শেয়ার করেন বলে জানা গেছে।
এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে নির্দেশনা ঘিরে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালকের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদযাপনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে একটি আয়োজন যেন অন্য কারও আয়োজনে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর রাতে ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টরের হস্তক্ষেপ এবং পরদিন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়। পরবর্তী সময়ে নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পশু জবাইয়ের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে একটি নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গরুর মাংস রান্না ও পরিবেশনকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ঘটনাটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি এবং বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা এবং সবার ধর্মীয় অনুভূতি ও অধিকারকে সম্মান করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সানা/আপ্র/১৫/১০/২০২৬
