জিডিপি বিতর্কে বড়সড় স্বস্তি কেন্দ্রের। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের পাশে দাঁড়াল ‘আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার’ বা আইএমএফ (ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড)। তারা জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের সংশোধিত জিডিপির হিসাব আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
একদিকে আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শুল্কবোমা’। আশঙ্কা ছিল এর প্রভাব হয়তো পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। কিন্তু সব প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়ে গত সেপ্টেম্বরে চলতি অর্থবর্ষের জুন ত্রৈমাসিকের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার হয় ৭.৮ শতাংশ। কিন্তু প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ দাবি করে বসেন, দেশের জিডিপি ২.৬ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তা বাড়িয়ে দেখাচ্ছে মোদি সরকার। সুভাষচন্দ্রের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমে পড়ে বিরোধীরা। লক্ষ্য একটাই ছিল, মোদি সরকারকে মিথ্যা প্রমাণ করা। এরপরই শুরু হয়ে যায় শাসক-বিরোধী তরজা।
কিন্তু বিরোধীদের সমস্ত দাবিতে জল ঢেলে দিল আইএমএফ। জিডিপি বিতর্কে তারা কেন্দ্রের পাশেই দাঁড়াল। আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের ডিরেক্টার কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, “ভারতের জিডিপি পরিমাপের পদ্ধতিটি আইএমএফ-এর পরিসংখ্যান বিভাগের দেওয়া পরামর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” নয়াদিল্লির সংশোধিত জিডিপির হিসাবকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
বলে রাখা ভালো, অর্থনীতি একটি জীবন্ত সত্তার মতো, যা প্রতিনিয়ত বিবর্তিত হয়। ২০১১ সালে ভারতের বাজারে স্মার্টফোনের রমরমা ছিল না, ফাইভ-জি ইন্টারনেট ছিল কল্পবিজ্ঞানের মতো, আর ঘরে বসে অনলাইনে পণ্য কেনা ছিল বিলাসিতা। গত এক দশকে জিএসটি চালু হয়েছে, ‘ইউপিআই’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টে বিপ্লব এসেছে এবং পরিষেবা খাত বা সার্ভিস সেক্টরের গুরুত্ব আকাশচুম্বী হয়েছে। এভাবেই প্রতিবারই নতুন নতুন ফ্যাক্টর যুক্ত হতে থাকে। এবার যেমন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল। আর সেই কারণেই আশঙ্কা ছিল, হয়তো এর ফলে জিডিপি বৃদ্ধি বড় ধাক্কা খাবে। কিন্তু শেষপর্যন্ত তা হয়নি। যা স্বস্তি দিচ্ছে অর্থনীতিবিদদের।
